মানুষের ভিড়ে রাস্তা বন্ধ, গুলিস্তান-মতিঝিল-রমনা এলাকায় যানজট

আনুমানিক ৪টা ৪৫ মিনিটের দিকে বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে রাজধানীর সিদ্দিকবাজারের সাত তলা পৌর ভবন। নিমেষেই ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় ভবনটি। বিস্ফোরণের পর পুরান ঢাকার সিদ্দিক বাজার, নয়াবাজার, নর্থ সাউথ রোড় এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।

মঙ্গলবার (৭ মার্চ) বিকেল ৪টা ৫০ মিনিটের দিকে এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণের পর বিকাল ৫টা থেকে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলো বিদ্যুৎবিহীন রয়েছে।

ঢাকায় বিদ্যুৎ বিতরণকারী কোম্পানি ডিপিডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক বিকাশ দেওয়ান গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, পরিস্থিতি অনুকূলে আসার পর তা আবার চালু করা হবে।

তিনি বিডিনিউজকে বলেন, “বিস্ফোরণের পর ওই এলাকার কিছু গ্রাহকের বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ রাখা হয়েছে। লাইনের কোনো সমস্যা হয়নি। আমাদের লোক সেখানে স্ট্যান্ডবাই আছে। পরিস্থিতি অনুকূলে এলে বিদ্যুৎ সংযোগ আবার ফিরিয়ে দেওয়া হবে।”

ঢাকা মহানগর পুলিশের লালবাগ বিভাগের উপ-কমিশনার (ট্রাফিক) আসমা সিদ্দিকা মিলি বলেন, ‘‘ঘটনার পর থেকে আশাপাশের অলি-গলিতে যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে সময় লাগবে।”

ওয়ারি বিভাগের উপ-কমিশনার (ট্রাফিক) মোস্তাক আহমেদ বলেন, ‘‘এ ঘটনার প্রভাব পুরান ঢাকাসহ মতিঝিল, রমনা এলাকায় পড়েছে। ফলে পুরো এলাকায় যানজট সৃষ্টি হয়েছে।”

এদিকে বিস্ফোরণের পর নর্থ সাউথ রোডসহ আশেপাশের সড়কে স্থানীয়রা ভিড় করলে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। ফলে উদ্ধার কাজেও বেগ পেতে হয় ফায়ার সার্ভিসসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ বেশ কয়েকটি সড়কে যান চলাচলও বন্ধ করে দিয়েছে।

এদিকে ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, পৌর ভবন নামের ওই বাণিজ্যিক স্থাপনার মালিক মৃত রেজাউল রহমান। এই ভবনের সঙ্গে লাগোয়া আরও তিনটি ভবন বিস্ফোরণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেগুলো হলো- চায়না পয়েন্ট, কাদের ম্যানশন ও নামহীন একটি ভবন।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের পরিদর্শক বাচ্চু মিয়া বলেছেন, “এখন পর্যন্ত ১৬ জনের মরদেহ ঢামেক হাসপাতালে রয়েছে। লাশগুলো মর্গে রাখা হয়েছে।”