‘পায়রা বন্দর এখন আর সম্ভাবনা নয়, বাস্তবতা’

পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ সোহায়েল বলেছেন, “পায়রা বন্দর বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর দেশের প্রথম স্মার্ট বন্দর। এ বন্দর এখন আর সম্ভাবনা নয়, বাস্তবতা। এটি প্রধানমন্ত্রীর যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত। নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় একটি আধুনিক মাস্টারপ্ল্যানের আওতায় এই বন্দরটি ধাপে ধাপে এগিয়ে যাচ্ছে।”

রবিবার (২৬ মার্চ) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মহান স্বাধীনতা দিবসে পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে রাবনাবাদ চ্যানেল হস্তান্তর অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন বন্দর চেয়ারম্যান।

বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান বলেন, “আগামীতে বন্দরে প্রথম টার্মিনালের সঙ্গে যুক্ত হবে মাল্টিপারপাস টার্মিনাল। কন্টেইনার টার্মিনাল-১, কন্টেইনার টার্মিনাল-২, লিকুইড বাল্ক টার্মিনাল, কোল টার্মিনাল, এলএনজি টার্মিনাল। ইতোমধ্যে বন্দরকে ঘিরে দেশী-বিদেশী ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে। এখানে গড়ে উঠবে পায়রা শিল্প নগরী, বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল, শিল্প ব্রেকিং-ইন্ডাস্ট্রি, ডক ইয়ার্ড, বিমান বন্দর।”

তিনি আরও বলেন, “খুব শিগগিরই পায়রা বন্দর হয়ে উঠবে দক্ষিণ এশিয়ার বৈদেশিক বাণিজ্যের সবচেয়ে বড় কেন্দ্র। বন্দরের ফাস্ট টার্মিনাল স্থাপনের কাজ শেষ হলে বন্দরের রাজস্ব আয় বাড়বে ৮-১০ গুণ। বন্দরের এই সক্ষমতার মাধ্যমে বাংলাদেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের ব্যাপক প্রসার ঘটবে এবং অর্থনীতিতে নতুন দিগন্তের সূচনা হবে।”

স্বাধীনতা দিবসে পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে রাবনাবাদ চ্যানেল হস্তান্তর অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছেন পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ সোহায়েল/ সৌজন্য

রাবনাবাদ চ্যানেল হস্তান্তর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পটুয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. মুহিববুর রহমান, স্কিম পরিচালক রাজীব ত্রিপুরা, প্রকল্প পরিচালক জ্যা জ্যান মুয়েনসসহ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এবং বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্যরা।

অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবারের সকল শহীদদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়। এ ছাড়াও জাতীয় চার নেতা, মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী ৩০ লাখ শহীদদেরও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে তাদের আত্মার মাফরেফাত কামনা করা হয়।

বন্দর সূত্রে জানা গেছে, রাবনাবাদ চ্যানেলের ক্যাপিটাল ড্রেজিং কাজ সম্পন্ন করে বেলজিয়াম ভিত্তিক জান ডি নুল নামের ঠিকাদারি একটি প্রতিষ্ঠান। এ ড্রেজিং কার্যক্রমের ফলে রামনাবাদ চ্যানেলটি ১০.৫ মিটার গভীরতায় উন্নীত হয়েছে। এর ফলে ২২৫ মিটার দৈর্ঘ্য এবং ৩২ মিটার প্রস্থ বিশিষ্ট প্যনাম্যাক্স আকৃতির বড় জাহাজ ৪০ হাজার থেকে ৫০ হাজার ম্যাট্রিক টন পণ্য নিয়ে সরাসরি বন্দরে ভিড়তে পারবে।

২০১৩ সালের ১৫ নভেম্বর পায়রা বন্দর যাত্রা শুরু করে। ২০১৯ থেকে পায়রা বন্দর অপারেশনাল কার্যক্রম শুরু করে।