সড়কে গাড়ি বিকল হলেই পৌঁছে যাবে মেকানিক

ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন ও স্বস্তিদায়ক করতে এবার ঈদে হাইওয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে বিশেষ কিছু ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। যাত্রীবাহী, পণ্যবাহী কিংবা যেকোনো ধরনের যানবাহন সড়কে বিকল হয়ে পড়লে সেটিকে দ্রুত সারাতে স্থানীয় গ্যারেজ মেকানিকদের নম্বর সংগ্রহ করে তালিকা করা হয়েছে। 

এসব মেকানিকরা দ্রুত বিকল হওয়া গাড়ির সারিয়ে দিতে পারলে সড়কে যানচলাচল নির্বিঘ্ন থাকবে বলে আশা হাইওয়ে পুলিশ প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি একেএম শাহাবুদ্দিন খানের। বৃহস্পতি ও শুক্রবার পোশাক কারখানা ছুটির পর সাভারের সড়কে যাত্রীর চাপ বাড়লেও এবার ঈদযাত্রা স্বস্তির হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

বুধবার দুপুরে ঢাকার আশুলিয়ায় নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কের বাইপাইল ত্রিমোড় এলাকায় সড়ক পরিদর্শন শেষে সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন হাইওয়ে পুলিশের প্রধান।

এ সময় তার সঙ্গে হাইওয়ে পুলিশের ডিআইজি মাহফুজুর রহমান, অতিরিক্ত ডিআইজি বরকত উল্লাহ খান, অতিরিক্ত ডিআইজি শ্যামল কুমার মুখার্জী ও গাজীপুর রিজিওনের পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান এবং ঢাকা জেলা উত্তর ট্রাফিক পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ হিল কাফিসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

হাইওয়ে পুলিশ প্রধান একেএম শাহাবুদ্দিন খান বলেন, “প্রতি বছর ঈদযাত্রা ঘিরে বাংলাদেশ পুলিশ ব্যাপক ব্যবস্থা নেয়। হাইওয়ের নিরাপত্তার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেয় হাইওয়ে পুলিশ। মন্ত্রিপরিষদ থেকে জেলা পর্যায়ে মিটিং করা হয়েছে। সার্বিকভাবে আজ যেসব জায়গা আমি পরিদর্শন করেছি সেসব জায়গায় যানচলাচল স্বাভাবিক দেখেছি। জনসাধারণের মাঝেও এক ধরনের স্বস্তি রয়েছে।” 

“যাত্রীর চাপ বাড়লেও পর্যাপ্তসংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন আছে। আশা করি, যাত্রীরা এবার স্বস্তি নিয়ে, নিরাপদে তাদের গন্তব্যে পৌঁছতে পারবেন। আমরা প্রত্যাশা করছি, এবারের ঈদ যাত্রা অনেক বেশি স্বাচ্ছন্দ্যের ও নিরাপদ হবে।”

অতিরিক্ত আইজিপি আরও বলেন, “পাঁচটি মহাসড়ক ও আঞ্চলিক সড়কের বিভিন্ন স্থানে চ্যালেঞ্জের জায়গাগুলো আমরা চিহ্নিত করেছি। সেসব জায়গায় সমন্বয় করা হয়েছে। বিশেষ করে হাইওয়ে পুলিশের টহল ও ইন্টেলিজেন্সের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় সাব-কন্ট্রোল ও কন্ট্রোল বসিয়ে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। আমাদের অ্যাম্বুলেন্স ও রেকারগুলো প্রস্তুত রাখা হয়েছে।”

বিশেষ ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “যেসব হাইওয়ের পাশে বাজারে গ্যারেজ আছে সেখানকার মেকানিকদের নম্বর সংগ্রহ করে তালিকা তৈরি করা হয়েছে। কারণ দেখবেন, সড়কের মাঝে গাড়ি বিকল হয়ে যায়। এ সময় যাতে দ্রুত মেকানিকের মাধ্যমে গাড়িটি সারিয়ে সচল করা যায় সেই ব্যবস্থা নিয়েছি।”

পাশাপাশি ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে পরিবহন চালক, কর্মচারী ও সাধারণ যাত্রীদের আরও বেশি সচেতন থাকার আহ্বান জানান হাইওয়ে পুলিশের প্রধান।