‘সাইবার হামলার কবলে’ বিমান, কর্মীদের বেতনে বিলম্ব

সার্ভারে সাইবার হামলা, দুই মাস ধরে বেতন পাচ্ছেন না বিমানের অনেকে

বেতন বিলম্বের কবলে পড়েছেন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কর্মীরা। জানা গেছে, এ বছরের মার্চে সরকারি কোম্পানিটির ইমেইল সার্ভারে সাইবার হামলার কবলে পড়ে। সে কারণেই এই বিপত্তি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, হামলার দেড় মাস পেরিয়ে গেলেও তারা এখন পর্যন্ত ইমেইল সার্ভার পুরোপুরি পুনরুদ্ধার করতে পারেননি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিমানের এক কর্মী ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, গত দুই মাস ধরে তিনি বেতন পাচ্ছেন না।

তবে বিমান কর্তৃপক্ষ এই হামলার খবর অস্বীকার করে আসছে। তাদের ভাষ্য, এ ধরনের খবর ভিত্তিহীন কিংবা অতিরঞ্জিত।

শফিউল আজিমের অনুপস্থিতিতে বিমান বাংলাদেশের এমডি ও সিইওর দায়িত্ব সামলাচ্ছেন পরিচালক সিদ্দিকুর রহমান। তিনি ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “সবাই বেতন পাচ্ছেন তবে সামান্য বিলম্ব হচ্ছে। ব্যাকআপ সার্ভার ব্যবহার করে আমরা কার্যক্রম পরিচালনা করছি।”

ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাজেন্সি এবং বেসামরিক বিমান চলাচল সূত্রের বরাতে ঢাকা ট্রিবিউনের হাতে কিছু নথি এসে পৌঁছেছে। এসব নথির তথ্য বলছে, ইমেইল সার্ভারের অ্যাকসেস ফিরিয়ে দিতে হ্যাকাররা বিমানের কাছে পঞ্চাশ কোটি ডলার পণ দাবি করেছে।

সম্প্রতি বিমানের সিইও শফিউল আজম বলেন, “বিমানের কার্যক্রম কিংবা সংশ্লিষ্ট কাজে কোনো ব্যত্যয় ঘটছে না। স্বাভাবিকভাবেই আমাদের কার্যক্রম চলছে।”

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সিভিল এভিয়েশন অথরিটির (ক্যাব) প্রশাসন ও মানবসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, সাধারণত তারা মাসের প্রথম দুইদিনের মধ্যেই বেতন-ভাতা বুঝে পান। কিন্তু সার্ভার ডাউন হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত তারা মার্চ ও এপ্রিলের বেতন পাননি।

১৭ মার্চ হামলা চালিয়ে হ্যাকাররা “হ্যালো” লেখা একটি মেসেজ পাঠায়। হ্যাকাররা “জিরো ডে অ্যাটাক” ম্যালওয়ারের সাহায্যে সার্ভারে হলুদ রঙের সমান্তরাল বৃত্তাকৃতির লোগো বসিয়ে যায়।

পরদিন অর্থাৎ ১৮ মার্চ হ্যাকাররা পঞ্চাশ কোটি ডলার পণ দাবি করে। তারা এজন্য ২০ মার্চ পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দেয়।

২১ মার্চ তারা সার্ভারে থাকা ডেটা থেকে ১০০ জিবি ব্যক্তিগত ও গোপনীয় তথ্য ফাঁসের হুমকি দেয়। দাবি অনুযায়ী অর্থ না পেলে হ্যাকাররা যাত্রী এবং বিমানকর্মীদের ফ্লাইট ও পাসপোর্টের তথ্যের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ ডেটা একটি অনলাইন ব্লগে পাবলিশের হুমকি দেয়।

২২ মার্চ নিজেদের হ্যাকার দাবি করে বিমান কর্তৃপক্ষের কাছে আসা এক বার্তায় বলা হয়, “আপনারা সংবাদমাধ্যমে বলেছেন কোনো তথ্য ফাঁস হয়নি। আসলে আপনাদের ধারণা ভুল।”

২০২২ সালের অক্টোবের পাশ হওয়া ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন অনুযায়ী বিমান অন্যতম “গুরুত্বপূর্ণ তথ্য অবকাঠামো”।