সরকার প্রবাসীদের সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে মন্তব্য করে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জমান মিল্লাত বলেছেন,‘‘নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী সরকার প্রবাসী কার্ড চালু করতে যাচ্ছে। এটা আমাদের দলের অন্যতম অঙ্গীকার ছিল। প্রবাসীরা যাতে যথার্থ সেবা পায়, সে লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। আমাদের মন্ত্রণালয় এক্ষেত্রে পুরোপুরি সহযোগিতা করবে।’’
মঙ্গলবার (২১জুলাই) সচিবালয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় এ কথা বলেন তিনি।
প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য ‘প্রবাসী ডেবিট কার্ড’-এর মাধ্যমে ঘোষিত বিশেষ সুবিধাসমূহ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় বিমান প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘‘প্রবাসী কার্ড প্রবাসীদের বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠাতে উৎসাহিত করতে এবং তাদের সামাজিক মর্যাদা, ক্ষমতায়ন ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চালু করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী আগস্ট ২০২৬-এর মাঝামাঝি সময়ে ‘প্রবাসী ডেবিট কার্ড’-এর শুভ উদ্বোধনে সদয় সম্মতি জ্ঞাপন করেছেন। কার্ডটির মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য ধাপে ধাপে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সেবায় অগ্রাধিকার, বিশেষ ছাড় এবং অন্য মূল্যসংযোজিত সুবিধা চালু করা হবে।’’
সভায় দুই মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সচিব এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন। সভায় প্রবাসী ডেবিট কার্ডধারীদের জন্য বিমানবন্দর ও পর্যটন-সংশ্লিষ্ট সেবাসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সেবায় অগ্রাধিকার ও বিশেষ সুবিধা নিশ্চিত করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
সভায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, সংস্থা ও অংশীজনদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানানো এবং পারস্পরিক সমন্বয় জোরদার করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
বিশেষভাবে যেসব সুবিধা বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়, তা হচ্ছে- বিমানবন্দরের লাউঞ্জ ব্যবহারে বিশেষ সুবিধা; প্রবাসী ডেবিট কার্ডধারীদের জন্য বিমানবন্দরে বিশেষ চেকিং বুথ বা অগ্রাধিকারভিত্তিক চেকিং সুবিধা; অংশগ্রহণকারী বিমান সংস্থাসমূহের মাধ্যমে বিমান টিকিটে বিশেষ মূল্যছাড়; অংশগ্রহণকারী হোটেলসমূহে আবাসন সেবায় বিশেষ ছাড় ও অফার।
সভায় উপস্থিত প্রতিনিধিরা বলেন, ‘‘এসব সুবিধা বাস্তবায়নের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের যাত্রা, ভ্রমণ এবং সেবাপ্রাপ্তি আরও সহজ, দ্রুত ও সুবিধাজনক হবে।’’
সভায় অংশগ্রহণকারীরা প্রবাসী ডেবিট কার্ডের সফল বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়, সংস্থা ও অংশীজনের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।



