রাজধানীর মতিঝিলে আওয়ামী লীগ নেতা জাহিদুল ইসলাম টিপু ও সামিয়া আফরান জামাল প্রীতি হত্যা মামলায় সেই মোটরসাইকেল চালকসহ আরও পাঁচ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তাররা হলেন— মোটরসাইকেল চালক শামীম হোসাইন ওরফে মোল্লা শামীম (৩৫), তৌফিক হাসান ওরফে বাবু (৩৪), সুমন হোসেন (৩৫), এহতোশাম উদ্দিন চৌধুরী অপু (৩৭) ও শরিফুল ইসলাম হৃদয় (২৭)।
এ নিয়ে এ ঘটনায় ২৭ জন গ্রেপ্তার হলেন। মঙ্গলবার (১৬ আগস্ট) দুপুরে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ডিবি প্রধান হারুন অর রশীদ সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।
এর আগে সোমবার রাজধানী ঢাকা ও যশোরের বেনাপোল এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে।
এ সময় তাদের কাছ থেকে দুটি বিদেশি পিস্তল, আট রাউন্ড গুলি, তিনটি ম্যাগাজিন ও একটি মোটরসাইকেল জব্দ করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
এর আগে গত ৩১ জুলাই রাজধানীর মতিঝিল এলাকা থেকে আরও দুই সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
পুলিশ এ পর্যন্ত ২৭ জনকে আটক করেছে বলে জানান ডিএমপি কর্মকর্তা।
গত ২৪ মার্চ রাত ১০টা ২০ মিনিটে শাহজাহানপুরের আমতলা এলাকায় মতিঝিল থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. জাহিদুল ইসলাম টিপুকে এজিবি কলোনি থেকে নিজ বাসায় ফেরার পথে গুলি করা হয়।
এ সময় পাশে থাকা রিকশা আরোহী সামিয়া আফরান জামাল প্রীতি গুলিবিদ্ধ হন। তাদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় শাহজাহানপুর থানায় হত্যা মামলা করা হয়।
এরপর গোয়েন্দা (মতিঝিল) বিভাগ ঘটনার তদন্ত শুরু করে। তদন্তকালে এ মামলার মূল শুটার মাসুম মোহাম্মদ ওরফে আকাশকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আকাশকে জিজ্ঞাসাবাদ এবং তার ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিতে হত্যাকাণ্ডের মূল সমন্বয়ক হিসাবে সুমন শিকদার অরফে মুসা ও পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসান আহম্মেদ মন্টি ও জাফর আহম্মেদ মানিক ওরফে ফ্রিডম মানিকের সংশ্লিষ্ঠতার কথা প্রকাশ করে।
পরে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা মতিঝিল বিভাগের মাধ্যমে সুমন শিকদার মুসাকে ইন্টারপোলের সহায়তায় ওমান থেকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়।
ডিবি প্রধান জানান, এক পর্যায়ে আমরা জানতে পারি, শামীম হোসেন ওরফে মোল্লা শামীম সীমান্ত পাড়ি দিয়ে দেশ ত্যাগ করার উদ্দেশে যশোরের বেনাপোল এলাকায় অবস্থান করছে।
গোয়েন্দা মতিঝিল বিভাগ তার সঠিক অবস্থান নিশ্চিত হয়ে সোমবার সন্ধ্যা ৭টায় তাকে বেনাপোল থেকে গ্রেপ্তার করে।
মোল্লা শামীমের দেওয়া তথ্যে তৌফিক হাসান অরফে বাবু অরফে বিডি বাবু, মো. সুমন হোসেন ওরফে সুমন ও মো. এহেতেশাম উদ্দিন চৌধুরী ওরফে অপুকে রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তাদের দেওয়া তথ্যে দক্ষিণ গোড়ান থেকে শরিফুল ইসলাম ওরফে হৃদয়কে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দুটি বিদেশি পিস্তল, আট রাউন্ড গুলি ও তিনটি ম্যাগাজিনসহ গ্রেপ্তার করা হয়। বাবুর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি দক্ষিণ গোড়ান হতে উদ্ধার করা হয়।