জারাজীর্ণ আশ্রয়ণ কেন্দ্রে ২৫০ পরিবারের মানবেতর জীবনযাপন

ভাঙা বেড়াকে পাশ কাটিয়ে শীতের হিমেল হাওয়া ঢুকছে ঘরে। রাতে চাল দিয়ে পড়ে জমে থাকা শিশির। তীব্র শীতে এই ঘর আর গাছতলার তেমন পার্থক্য নেই। বৃষ্টি হলে সারারাত জেগে থাকা ছাড়া কোনো উপায় থাকে না। বৃষ্টির পানি বেরিয়ে যাওয়ার কোনো ব্যবস্থা না থাকায় ঘরের ভেতর তৈরি হয় কাদা।

তবু এই ঘরের মায়া ছাড়তে পারেননি ষাটোর্ধ্ব নিহার বেগম। গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার জলিপাড় আশ্রয়ণ কেন্দ্রের ওই ঘরেই তার কেটেছে ২৩ বছর। তিনি আশা করেন, আশ্রয় কেন্দ্রটির ২৫০টি পরিবারের এই দুঃখ-দুর্দশা লাঘবে সরকার পদক্ষেপ নেবে।

ওই কেন্দ্রের আরেক ষাটোর্ধ্ব প্রবীণ বাসিন্দা সূর্য্য শেখ। তিনি বলেন, “১৯৯৯ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্যোগে তাদের আশ্রয়ণ কেন্দ্রে ২৫টি টিনের সেড নির্মাণ করে দেওয়া হয়। প্রতিটি সেডে ১০টি করে পরিবার বসবাস করছে। এখানে মোট ২৫০টি পরিবার বসবাস করছে। দীর্ঘ ২৩ বছরেও এই সেডগুলো মেরামত করা হয়নি। জড়াজীর্ণ হয়ে পড়েছে। যাদের সামর্থ আছে তারা মেরামত করে নিয়েছে। সামর্থ নেই এমন অনেকেই জাড়াজীর্ণ ঘরেই বসবাস করছেন।”

আরেক বাসিন্দা শহিদ শেখ বলেন, “প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুজিববর্ষে আশ্রয়ণ প্রকল্প-০২ বাস্তবায়ন করেছেন। ওই আশ্রয়ণের ঘরগুলো খুব সুন্দর হয়েছে। আমাদের আশ্রয়ণ কেন্দ্রটিও সংস্কার করে বসবাসের উপযোগি করা হবে এমনটাই প্রত্যাশা করি।”

মর্জিনা বেগম (৫৫) বলেন, “স্যানিটারি টয়লেটগুলো নষ্ট হয়ে গেছে। ২৫টি টিউবওয়েলের মধ্যে ১০টি অকেজো। কমিউিনিটি সেন্টার ৩টি ভেঙে গেছে। বসবাসের উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে আমরা প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।”

মুকসুদপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. ফাইজুল ইসলাম ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “গত ২৩ বছরে মধ্যে ওই আশ্রয়ণ কেন্দ্রের কোনো সংস্কার কাজ করা হয়নি। কেন্দ্রটির ৭০ ভাগ টিনের চাল নষ্ট হয়ে গেছে। ৫ বছর আগে এটি সংস্কারের জন্য ২০ লাখ টাকা বরাদ্দ পাওয়া যায়। এই টাকা ছিল প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। তাই আশ্রয়ণ কেন্দ্র সংস্কার না করে টাকা ফেরৎ দেওয়া হয়।”

তিনি আরও বলেন, “সংস্কারের অভাবে ২৫০টি পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করছে। আমরা সেডগুলো সংস্কার করার জন্য ২ বছর আগে ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠিয়েছি। এখন পর্যন্ত এ ব্যাপারে কোনো বরাদ্দ পাইনি। বরাদ্দ পেলে ঘরগুলো সংস্কার করে দেওয়া হবে।”