ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবির ঘটনায় নগরকান্দার ১২ যুবক এখনো নিখোঁজ

লিবিয়া থেকে অবৈধ উপায়ে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইতালি যাওয়ার পথে নৌকাডুবির ঘটনায় এখন পর্যন্ত ফরিদপুরের ১২ তরুণ নিখোঁজ রয়েছেন।

গত রবিবার (১২ মার্চ) বৈরী আবহাওয়ায় ওই নৌকাডুবির ঘটনা ঘটে। সোমবার ইতালীয় কর্তৃপক্ষ জানায়, তারা ১৭ জনকে উদ্ধার করেছেন। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিরা সবাই বাংলাদেশি। 

এছাড়া এ ঘটনায় ৩০ জন নিখোঁজ থাকার কথাও জানায় দেশটি। জানা গেছে, ওই ৩০ জনের মধ্যে আরও ১২ জন বাংলাদেশি রয়েছেন। নিখোঁজ ও উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিরা স্থানীয় দালাল চক্রের মাধ্যমে অবৈধভাবে ইতালি যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন।

নিখোঁজ ১২ বাংলাদেশিরা হলেন- ফরিদপুরের নগরকান্দায় উপজেলার কোদালিয়া শহীদনগর ইউনিয়নের আটকাহনিয়া গ্রামের শফিকুল ইসলাম রাসেল (৩০), ডাঙ্গী ইউনিয়নের কৃষ্ণনগর গ্রামের আল আমিন মাতুব্বর (২০), মাহফুজ মোল্যা (২২), নাজমুল মোল্যা (২৩) ও আকরাম ব্যাপারী (২৭), বাশাগাড়ী গ্রামের স্বপন ফকির (২৭), শংকরপাশা গ্রামের শামীম কাজী (২১), বিপুল (২৫), বিটুল শেখ (২৫), শ্রীঙ্গাল গ্রামের মিরান শেখ (২২), তুহিন শেখ (২০) ও নারুয়াহাটি গ্রামের শাওন তালুকদার (২২)।


আরও পড়ুন- ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবি, ১৭ বাংলাদেশি উদ্ধার


নিখোঁজ রাসেলের বাবা তোরাপ মোল্যা জানান, “নগরকান্দার কৃষ্ণনগর গ্রামের মুরাদ ফকির নামে একজনের সঙ্গে ৮ লাখ টাকার ইতালি যাওয়ার চুক্তি করে তার ছেলে। এ বছরের ৫ জানুয়ারি ইতালির উদ্দেশে বাড়ি ছাড়ে তার ছেলে রাসেল। দুবাই হয়ে ১২ জানুয়ারি লিবিয়ায় পৌঁছায় সে। দুই মাস লিবিয়ায় অবস্থানের পর রবিবার সাগরপথে ইতালি যাওয়ার সময় তার নৌকাটি ডুবে যায়।”

ডাঙ্গী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী আবুল কালামের ভাষ্য, “মুরাদ ফকির একজন মানব পাচারকারী। তিনি অবৈধভাবে বিদেশে লোক পাঠিয়ে কয়েক কোটি টাকা আয় করেছেন।”

মুরাদ ফকির পলাতক থাকায় এ বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে তার সহযোগী বাশাগারী গ্রামের ইমারত মিয়া ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “বিদেশে যেতে ইচ্ছুক এমন বেশ কয়েকজনের টাকা তিনি মুরাদকে দিয়েছেন।”

এ বিষয়ে নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিরাজ হোসেন বলেন, “এ বিষয়ে কেউ কোনো অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে।”

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মঈনুল হক বলেন, “এ ব্যাপারে কেউ কোনো অভিযোগ করেননি। তবে কেউ যদি অভিযোগ করে তাহলে মানব পাচারকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ২০২৩ সালে এ পর্যন্ত সাগরপথে ২০ হাজারের বেশি অভিবাসনপ্রত্যাশী ইতালিতে পৌঁছেছেন। সরকারি তথ্য বলছে, ২০২২ সালের একই সময়ে এ সংখ্যা ছিল ৬,১৫০ জন।

অর্থাৎ ইতালিতে পৌঁছানো অভিবাসনপ্রত্যাশীর সংখ্যা তিনগুণের বেশি বেড়েছে। কেবল গত ৯ থেকে ১১ মার্চের মধ্যেই ইতালিতে পৌঁছেছে ৪,৫০০ জনের বেশি।