দেশের মোট শ্রমশক্তি সাত কোটি ৩৬ লাখ ৯০ হাজার মানুষ। যার মধ্যে ৪ কোটি ৮২ লাখ পুরুষ এবং ২ কোটি ৫৪ লাখ নারী। ১৫ বছর বা তার বেশি বয়সী যেসব মানুষ কাজ করেন তাদের সংখ্যা ও মোট বেকারের সংখ্যাকে মোট শ্রমশক্তি বোঝায়।
মঙ্গলবার (২ মে) ঢাকার এনইসি সম্মেলন কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রথম প্রান্তিকের (জানুয়ারি-মার্চ) ২০২৩ সালের শ্রমশক্তি জরিপের প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) মহাপরিচালক মো. মতিয়ার রহমানের সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম ও বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন পরিসংখ্যান ও তথ্যবিজ্ঞান বিভাগের সচিব ড. শাহনাজ আরেফিন।
শ্রমশক্তি জরিপের প্রকল্প পরিচালক আজিজা রহমান জরিপের ফলাফল উপস্থাপন করেন।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) পরিচালিত শ্রমশক্তি জরিপ একটি গুরুত্বপূর্ণ জরিপ হিসেবে মনে করা হয়।
অনুষ্ঠানে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম বলেন, “বিবিএস প্রথমবারের মতো শ্রমশক্তি জরিপের ফলাফল ত্রৈমাসিকে প্রকাশ করছে। এরপর ত্রৈমাসিকভাবে জিডিপি সংক্রান্ত তথ্যও প্রকাশ করবে। শ্রমশক্তি জরিপ ও জিডিপির ফলাফল অর্থনীতির অবস্থা বোঝার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।”
বিবিএসের প্রশংসা করে তিনি বলেন, “বর্তমানে সময়ে বিবিএস খুবই সক্রিয় এবং প্রাণবন্ত।”
জরিপের সঙ্গে জড়িত সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে ডা. আলম বলেন, “জরিপের ফলাফল এমনই প্রত্যাশিত ছিল।”
পরিসংখ্যান ও তথ্যবিজ্ঞান বিভাগের সচিব ড. শাহনাজ আরেফিন বলেন, “জরিপের ফলাফল ত্রৈমাসিক হালনাগাদ করা হবে। এটি বিভিন্ন মৌসুমে শ্রমবাজারের অবস্থা সম্পর্কে জানতে সরকারকে সহায়তা করবে।”
বিবিএসের মহাপরিচালক মো. মতিয়ার রহমান বলেন, “বিবিএস এখন জাতিসংঘের পরিসংখ্যান সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী কার্যক্রম পরিচালনা করায় অতীতের তুলনায় আরও প্রাণবন্ত ও স্বচ্ছ। আমরা শতভাগ স্বচ্ছ। আমরা এই বিষয়ে মিডিয়ার সমর্থন চাই।”
২০২২ সালের চতুর্থ প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) দেশের মোট শ্রমশক্তি ছিল ৭২.৮৯ মিলিয়ন। যার মধ্যে ৪৭.০৫ মিলিয়ন পুরুষ ও ২৫.৮৪ মিলিয়ন নারী।
সমীক্ষার ফলাফলে দেখা গেছে, আইএলও নির্দেশিকা অনুসারে, ২০২৩ সালের ১ম ত্রৈমাসিকে কর্মে নিযুক্ত দেশের মোট মানুষের সংখ্যা ৭১.১০ মিলিয়ন। যার মধ্যে ৪৬.৫৪ মিলিয়ন পুরুষ ও ২৪.৫৬ মিলিয়ন নারী।
২০২২ সালের ৪র্থ ত্রৈমাসিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) শ্রমশক্তিতে থাকা মানুষের সংখ্যা ছিল ৭০.৯১ মিলিয়ন। যার মধ্যে ৪৫.৭৩ মিলিয়ন পুরুষ ও ২৫.১৮ মিলিয়ন নারী।
সমীক্ষার ফলাফলে দেখা গেছে, ২০২৩ সালের প্রথম ত্রৈমাসিকে বেকার মানুষের সংখ্যা ২.৫৯ মিলিয়ন। যার মধ্যে ১.৭১ মিলিয়ন পুরুষ ও ০.৮৮ মিলিয়ন নারী। প্রথম প্রান্তিকে বেকারত্বের হার ৩.৫১%। যার মধ্যে ৩.৫৪% পুরুষ ও ৩.৪৬% নারী।
২০২২ সালের ৪র্থ ত্রৈমাসিকে মোট বেকারের সংখ্যা ছিল ২.৩২ মিলিয়ন। যার মধ্যে ১.৬৬ মিলিয়ন পুরুষ ও ০.৬৬ মিলিয়ন নারী। ২০২২ সালের ৪র্থ ত্রৈমাসিকে বেকারত্বের হার ছিল ৩.২%। যার মধ্যে ৩.৫% পুরুষ ও ২.৬% নারী।
বিবিএস জরিপ বলছে, ২০২৩ সালের ১ম ত্রৈমাসিকে প্রায় ৪৬.৩৯ মিলিয়ন মানুষ শ্রমশক্তির বাইরে রয়েছে। যার মধ্যে ১১.১৯ মিলিয়ন পুরুষ ও ৩৫.২০ মিলিয়ন নারী।
২০২৩ সালের ১ম ত্রৈমাসিকে শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণকারীদের হার ৬১.৩৭%। যার মধ্যে ৮১.১৭% পুরুষ ও ৪১.৯৫% নারী
দেশে ১৫-২৯ বছর বয়সী মোট যুবকের সংখ্যা ২৭.৩৮ মিলিয়ন। যার মধ্যে ১৪.০৩ মিলিয়ন পুরুষ ও ১৩.৩৫ মিলিয়ন নারী।
২০২৩ সালের ১ম ত্রৈমাসিকে বিভিন্ন খাতে নিয়োজিত ৭১.১০ মিলিয়ন মানুষের মধ্যে প্রায় ৩১.৯৪ মিলিয়ন মানুষ কৃষি খাতে নিয়োজিত। প্রায় ১২.২৫ মিলিয়ন মানুষ শিল্প খাতে ও প্রায় ২৫.৯১ মিলিয়ন মানুষ বিভিন্ন পরিষেবায় নিযুক্ত রয়েছে।
সারাদেশে প্রতি ত্রৈমাসিকে প্রায় ৩০,৮১৬টি পরিবারের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। এক বছরের চার প্রান্তিকে তথ্য নেওয়া হয়।
সমীক্ষার ফলাফল সরকারকে শ্রমশক্তির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে ও বেকারত্ব মোকাবেলার জন্য প্রয়োজনীয় নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে সহায়তা করবে।