নবায়নযোগ্য জ্বালানির উৎপাদনে বড় বিনিয়োগ প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন বক্তারা।
তারা বলছেন, ২০৪১ সালের মধ্যে ৪০% নবায়নযোগ্য জ্বালানির উৎস প্রস্তুতে জি৭ দেশগুলোর বাংলাদেশকে বড় সহায়তা দেওয়া প্রয়োজন। কারণ এই সময়ে বছরে এ খাতে ১.৫৩ বিলিয়ন ডলার থেকে ১.৭১ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ দরকার।
বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) বলছে, ২০১৬ থেকে ২০২৩ সালে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে দেশ ও বিদেশ থেকে বাংলাদেশ ৬.৭১ বিলিয়ন ডলার অর্থ পেয়েছে। যা অপর্যাপ্ত ছিল।
বুধবার (১০ মে) ঢাকার একটি হোটেলে সিপিডি আয়োজিত এক সংলাপে বক্তব্য রাখেন সংশ্লিষ্টরা।
২০২৩ সালের জি-৭ সম্মেলন সামনে রেখে নবায়নযোগ্য জ্বালানি নিয়ে এ সংলাপের আয়োজন করে সিপিডি।
সংলাপের শুরুতে ‘কল ফর গ্লোবাল ইনিশিয়েটিভস ফর এন্ডিং সাপোর্ট ফর ফসিল ফুয়েলস অ্যান্ড অ্যাকসেলারেটিং দ্য ট্রানজিশন টু রিনিউয়েবল এনার্জি' শীর্ষক একটি নিবন্ধ উপস্থাপন করা হয়।
মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন সিপিডির গবেষণা পরিচালক খোন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম।
এতে সুপারিশ করা হয়, উন্নয়নশীল দেশগুলোতে কয়লা খাতে বিনিয়োগ বন্ধ করা উচিত এসব দেশের। তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসে (এলএনজি) বিনিয়োগ স্থগিত করা দরকার। নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে উন্নয়শীল দেশগুলোকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।
চেইঞ্জ ইনিশিয়েটিভ হিসাব করে দেখেছে, ২০১৬ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক উৎস থেকে ৬.৭১ বিলিয়ন ডলার নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে অর্থায়ন পেয়েছে।
বক্তারা বলেন, সরকারের ২০০৮ সালের নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতি অনুযায়ী ২০৫০ সালের মধ্যে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে মোট বিদ্যুতের ৪০% আসতে হবে। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রায় সবকটি উদ্যোগ ব্যর্থ হয়েছে; কখনও অর্থায়নের কারণে, কখন পর্যাপ্ত জমির প্রাপ্যতার কারণে। নীতি সহায়তার অভাবে উদ্যোক্তারাও সেভাবে এগিয়ে আসেননি।
সিপিডি এক সুপারিশে বলে, জি-৭ অবিলম্বে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে কয়লায় বিনিয়োগ বন্ধ করা উচিত। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, জাপানের উচিত আন্তর্জাতিক কয়লা অর্থায়ন বন্ধ করে, বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে কয়লার সম্পূর্ণ বাদ দেওয়াকে অগ্রাধিকার দেওয়া।
এদিকে ২০২২ সালে চাহিদা পুরোপুরি না মিটলেও ২০২৩ সালের শেষ নাগাদ তা পূরণ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এজন্য নবায়নযোগ্য জ্বালানির শক্তি অর্থায়নে একটি লক্ষ্য নির্ধারণ করে উন্নয়নশীল দেশগুলোর নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতকে প্রচার ও সমর্থন করা এই বছরের শীর্ষ সম্মেলনের একটি উদ্দেশ্য হওয়া উচিত।
জলবায়ু অর্থায়নের বৈশ্বিক প্রতিশ্রুতি প্রতি বছর ১০০ বিলিয়ন ডলারে বাড়ান উচিত বলেও জানানো হয়।
উন্নয়নশীল দেশগুলোতে, উন্নত নবায়নযোগ্য প্রযুক্তির উদ্ভাবন করা উচিত। কম খরচে নবায়নযোগ্য প্রযুক্তি হস্তান্তর করা দক্ষিণে শক্তির স্থায়িত্ব ও কার্বন হ্রাস উভয়ের জন্যই উপযুক্ত হওয়া উচিত।
এতে প্যানেলিস্ট হিসাবে জাপান দূতাবাসের ডেপুটি চিফ অব মিশন (মন্ত্রী), তাতসুয়া মাচিদা তার বিবৃতিতে বলেছেন, জাইকা বর্তমানে একটি সমন্বিত শক্তি ও বিদ্যুৎ পরিকল্পনা তৈরির জন্য কাজ করছে।
তিনি বলেন, এটি ২০৪০ সালের মধ্যে আপনার (বাংলাদেশের) লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করতে পারে। “এটি একটি উচ্চ লক্ষ্য, কিন্তু বাস্তবসম্মত পদক্ষেপের সাথে এটি সম্ভব হতে পারে।”
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য তানভীর শাকিল জয় বলেন, “জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে এ ধরনের শীর্ষ সম্মেলনের আগে স্বাভাবিকভাবেই আমাদের প্রত্যাশা অনেক বেশি।”
“কিন্তু আমাদের নিজেদের পরিকল্পনা ঠিক করতে হবে, যা আমাদের প্রতিযোগিতায় ধরে রাখবে,” তিনি যোগ করেছেন।
এতে সভাপতিত্ব করেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন।
ম্যাট ক্যানেল, ডেপুটি হাই কমিশনার, ব্রিটিশ হাই কমিশন; ফ্লোরিয়ান হোলেন, সহযোগিতার প্রধান, ফেডারেল রিপাবলিক অফ জার্মানির দূতাবাস; অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (এসআরইডিএ) পরিচালক (উপসচিব) মোহাম্মদ সৈয়দ আমিনুর রহমান।
এই বছরের শীর্ষ সম্মেলনে বৈশ্বিক জলবায়ু সংকটসহ বেশ কয়েকটি বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক সংকট ও উদ্ভূত চ্যালেঞ্জ তুলে ধরা হবে।
বৈশ্বিক নেতারা জলবায়ু পরিবর্তন প্রশমিত করতে এবং শক্তি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ২০৩০ সালের মধ্যে জীবাশ্ম জ্বালানি পর্যায়ক্রমে বন্ধ করার বিষয়ে একে অপরের প্রতিশ্রুতি নিয়ে আলোচনা করবেন।
উন্নয়নশীল দেশ হওয়ায়, জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার বন্ধ করতে ও উন্নয়নশীল বিশ্বকে লক্ষ্য করে নবায়নযোগ্য শক্তিতে রূপান্তরকে ত্বরান্বিত করার জন্য উন্নত দেশগুলো কী কী উদ্যোগ নিয়েছে তা জানতে এই শীর্ষ সম্মেলনের বিষয়ে বাংলাদেশের বিশেষ আগ্রহ রয়েছে।
জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনের গুরুত্ব বিবেচনা করে, সিপিডি এই জাতীয় সংলাপের আয়োজন করে।
সংলাপের উদ্দেশ্য ছিল উন্নয়নশীল দেশগুলোতে, বিশেষ করে বাংলাদেশে জীবাশ্ম জ্বালানিতে জি-৭ দেশগুলোর বিনিয়োগ সংক্রান্ত সমস্যা ও উদ্বেগ উত্থাপন করা ও আগামী বছরে ত্বরান্বিত নবায়নযোগ্য জ্বালানির অর্থায়নের দাবি জানানো।