চাঁদপুরের মতলব উত্তরে বাল্যবিবাহ থেকে রক্ষা পেয়েছে এক এসএসএস পরীক্ষার্থী (১৬)।
বৃহস্পতিবার (১১ মে) রাত ১২টায় উপজেলার ইসলামাবাদ ইউনিয়নের একটি গ্রামে অভিযান চালিয়ে ওই ছাত্রীর বিয়ে বন্ধ করে দেয় প্রশাসন।
এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে প্রথম আলো।
ইউএনওর কার্যালয়, পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই ছাত্রী স্থানীয় একটি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে এবার এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে। বৃহস্পতিবার রাত ১২টায় গোপনে ওই ছাত্রীর সঙ্গে পাশের গ্রামের এক প্রবাসী তরুণের (২৫) বিয়ের আয়োজন চলছিল। বরপক্ষকে আপ্যায়ন শেষে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওই ছাত্রীকে বিয়ের মন্ত্র পড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন পুরোহিত। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আশরাফুল হাসান বিয়েটি বন্ধ করার জন্য উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আল ইমরান খানকে নির্দেশ দেন। পরে সহকারী কমিশনার সেখানকার এক জনপ্রতিনিধিকে নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। সেখানে উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে বিয়ের আয়োজন বন্ধ করে দেন। প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার আগে মেয়েকে আর বিয়ে দেবেন না মর্মে ছাত্রীর মা–বাবার কাছ থেকে অঙ্গীকারনামাও আদায় করা হয়।
ছাত্রীটির বাবা বলেন, “ভালো পাত্র পাওয়ায় ও সামাজিক নিরাপত্তা ও আর্থিক সমস্যার কথা ভেবে মেয়েকে বিয়ে দিতে চেয়েছিলেন। এতে তিনি ভুল করেছেন। মেয়ে সাবালিকা হওয়ার আগে আর তাকে বিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করবেন না। লেখাপড়া করারও সুযোগ দেবেন।”
ইউএনও আশরাফুল হাসান মুঠোফোনে বলেন, “বাল্যবিবাহ একটি সামাজিক অপরাধ। এতে একটি কিশোরী শারীরিক ও মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। তার ভবিষ্যৎ অন্ধকার হয়ে পড়ে। এ কারণে বাল্যবিবাহ রোধে তার প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। এর অংশ হিসেবে গতকাল রাতে ওই ছাত্রীর বাল্যবিবাহ বন্ধ করেন।”