হিলিতে ৮০ ছুঁয়েছে পেঁয়াজ, বাণিজ্যমন্ত্রীর সুরে সুর আমদানিকারকদের

কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতে পেঁয়াজ আমদানি থেকে বিরত থাকার কথা বলেছিল সরকার। দুদিনর আগে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেছিল, “দাম না কমলে কৃষি মন্ত্রণালয় পেঁয়াজ আমদানির সিদ্ধান্ত নেবে।”

তার এই হুঁশিয়ারি বাজারে তেমন প্রভাব ফেলতে পারেনি বলেই আপাত মনে হচ্ছে। দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে পেঁয়াজের দাম। গত দুই তিন দিনের ব্যবধানে খুচরা পর্যায়ে কেজিতে অন্তত ১০ থেকে ১২ টাকা বেড়েছে। বর্তমানে পেঁয়াজ পৌঁছেছে ৮০ টাকায়। 

পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণে না আসায় শুক্রবার (১৯ মে) বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি আবারও দাম কমানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

তিনি বলেছেন, “দু-একদিনের মধ্যে দাম না কমলে পেঁয়াজ আমদানি করবে সরকার। একইসঙ্গে চিনির দাম নির্ধারণ করে দিলেও বাজারে তার প্রভাব এখনো পড়েনি। সরকার নির্ধারিত দামে চিনি বিক্রি নিশ্চিত করতে ভোক্তা অধিকার কাজ করছে।”

দাম লাগামহীন হওয়ায় পেঁয়াজ আমদানি করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তারসঙ্গে সহমত পোষণ করেছেন আমদানিকারকরাও। তারা বলছেন, দেশি পেঁয়াজ দিয়ে অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটানো সম্ভব না। দাম কমাতে হলে আমদানি করতেই হবে।

হিলি স্থলবন্দরের প্রসিদ্ধ পেঁয়াজ আমদানিকারক হাজী শহীদুল ইসলাম বলেন, “দুই মাসের বেশি সময় ধরে ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ রয়েছে। ফলে পেঁয়াজের বাজারে দামের এই অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে। যতদিন যাবে ততই দাম বাড়বে। দেশি পেঁয়াজ দিয়ে অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটানো সম্ভব না। তাই ক্রেতাদের দামের স্বস্তি দিতে হলে ভারত থেকে আমদানি করা ছাড়া কোনো বিকল্প নাই।”

হিলি বাজারের খুচরা ব্যবসায়ীরা জানান, আমদানি বন্ধের সুযোগে অসাধু ব্যবসায়ীরা পেঁয়াজের সংকট দেখিয়ে দাম বাড়াচ্ছেন। শুক্রবার হিলি বাজারে ৮০ টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে।” 

হিলি স্থলবন্দর উদ্ভিদ সঙ্গনিরোধ কেন্দ্রের উপ-সহকারী কর্মকর্তা ইউসুফ আলী বলেন, “সরকার দেশের কৃষকদের উদপাদিত পেঁয়াজের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে গত ১৫ মার্চ পর্যন্ত ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানিতে অনুমতি (আইপি) দিয়েছিল। এরপর ১৬ মার্চ থেকে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ হয়ে যায়। আমদানির বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি।”