ইবিতে প্রথম বর্ষের ছাত্রকে দফায় দফায় মারধর-যৌন নির্যাতনের অভিযোগ

দফায় দফায় মারধর, র‌্যাগিং এবং যৌন হয়রানির অভিযোগ করেছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) প্রথম বর্ষের এক শিক্ষার্থী। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের লালন শাহ হলের গণরুমে সোমবার (১৯ জুন) রাত ২টার দিকে এই মারধরের ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।

এ ঘটনায় সুষ্ঠু বিচার চেয়ে মঙ্গলবার দুপুরে প্রক্টর ও ছাত্র উপদেষ্টা বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী ছাত্র। 

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী জানান, সোমবার রাত ২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আফিফ হাসান, তন্ময় বিশ্বাস ও তাদের সহযোগীরা ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে গণরুমে ডেকে নেন। এ সময় তার ওপর শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার করা হয়। একইসঙ্গে যৌন হয়রানির শিকার হন তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে দেওয়া অভিযোগে বলা হয়, গণরুমে নির্যাতনের শিকার হওয়ার পর ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী আবাসিক হল থেকে বের হয়ে জিয়া মোড়ে আসেন। সেখানে অবস্থান শেষে হলে ফেরার সময় আবারও হল গেটে পথরোধ করেন অভিযুক্তরা। একপর্যায়ে মারধর করতে করতে জিয়া মোড়ে নিয়ে আসেন। এ সময় ভুক্তভোগী ছাত্রের পরিহিত শার্ট ছিঁড়ে যায় ও চশমা ভেঙে যায়।

অভিযোগে আরও বলা হয়, দ্বিতীয় দফায় হল গেটে মারধরের পর এ ঘটনার মীমাংসা করতে হল ছাত্রলীগের নেতার কক্ষে নিয়ে যান। সেখানে আবারও তাকে মারধর করা হয়।

অভিযুক্ত তন্ময় বিশ্বাস বলেন, “ভুক্তভোগী ছাত্রের সঙ্গে মনোমালিন্য হয়েছিল। পরে শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ ভাই বিষয়টি মীমাংসা করে দিয়েছিলেন। তাকে কোনো মারধর করা হয়নি।”

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ বুধবার ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “সোমবার রাতে শুনেছিলাম হল গেটে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটেছে। পরে তাদের ডেকে মীমাংসা করে দিয়েছিলাম। তখন উভয়পক্ষই মীমাংসা মেনে নিয়েছিল। তবে পরে শুনলাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে ভুক্তভোগী ছাত্র অভিযোগ দিয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলের দিকে ভুক্তভোগী ছাত্রের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। সে নিজে থেকে অভিযোগ প্রত্যাহার করে নেওয়ার কথা জানিয়েছে।”

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক শেলীনা নাসরিন বলেন, “অভিযোগটি আমরা হাতে পেয়েছি। বিষয়টি আমলে নেওয়া হয়েছে। আমরা আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) উভয়পক্ষকে ডেকে কথা বলব।” 

প্রসঙ্গত, এ বছরের ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের দেশরত্ন শেখ হাসিনা হলে দুই দফায় ফুল পরী নামে প্রথম বর্ষের এক ছাত্রীকে রাতভর নির্যাতন ও বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণ করা হয়। বিষয়টি নিয়ে দেশজুড়ে আলোচনা তৈরি হয়। পরে হাইকোর্টের নির্দেশে এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে শাখা ছাত্রলীগের সহসভাপতি সানজিদা চৌধুরী, ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের তাবাচ্ছুম ইসলাম ও মোয়াবিয়া জাহান, আইন বিভাগের ইসরাত জাহান ও চারুকলা বিভাগের হালিমা খাতুনকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়।