ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) দেশরত্ন শেখ হাসিনা হলে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ফুলপরী খাতুনকে নির্যাতনের ঘটনার পাঁচ ছাত্রলীগ নেতাকর্মীকে এক বছরের জন্য বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এর আগে তাদের দল থেকেও বহিষ্কার করা হয়।
শনিবার (১৫ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শৃঙ্খলা কমিটির সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীরা হলেন- বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী ও শাখা শাখা ছাত্রলীগের সহসভাপতি সানজিদা চৌধুরী ওরফে অন্তরা, ছাত্রলীগকর্মী ও চারুকলা বিভাগের শিক্ষার্থী হালিমা আক্তার ঊর্মি, ছাত্রলীগকর্মী ও আইন বিভাগের শিক্ষার্থী ইসরাত জাহান মিম, ছাত্রলীগকর্মী ও ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের শিক্ষার্থী তাবাসসুম ইসলাম ও মুয়াবিয়া জাহান।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর শাহাদৎ হোসেন ঢাকা ট্রিবিউনকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনে এটা সর্বোচ্চ শাস্তি। এই সময়ে বহিষ্কৃতরা বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস–পরীক্ষাসহ কোনো কিছুতেই অংশ নিতে পারবেন না।”
প্রসঙ্গত, এ বছরের গত ১২ ফেব্রুয়ারি রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের দেশরত্ন শেখ হাসিনা হলের গণরুমে ফিন্যান্স বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্রী ফুলপরী খাতুনকে সাড়ে চার ঘণ্টা আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়।
সেসময় ফুলপরী অভিযোগ করেন, সানজিদা চৌধুরীর নেতৃত্বে তার অনুসারীরা তাকে নির্যাতন করেন। তাকে বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণ, গালাগাল ও ঘটনা কাউকে জানালে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়।
পরে ফুলপরী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর, হল প্রাধ্যক্ষ ও ছাত্র উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দেন। এ ঘটনায় রিট হলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে ঘটনা তদন্তে কমিটি গঠনের পাশাপাশি কিছু নির্দেশনা দেন হাইকোর্ট।
ঘটনাটি নিয়ে দুটি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের পর হাইকোর্টের বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি রাজিক-আল-জলিলের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ কয়েক দফা নির্দেশনাসহ আদেশ দেন।
নির্যাতনের ঘটনায় জড়িত থাকায় শাখা ছাত্রলীগের সহসভাপতি সানজিদা চৌধুরীসহ পাঁচ ছাত্রীকে শিক্ষা কার্যক্রম থেকে সাময়িক বহিষ্কার করতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন আদালত।