জন্ডিস আক্রান্ত হয়ে বুধবার (৯ আগস্ট) ভোরে মারা যান ফরিদপুরের শহরতলীর সিঅ্যান্ডবি ঘাট পতিতাপল্লির বাসিন্দা মর্জিনা বেগম।
বেঁচে থাকার তাগিদে ইচ্ছের বিরুদ্ধে পতিতাবৃত্তি গ্রহণ করা এই নারীর দাফন নিয়ে তৈরি হয় জটিলতা। তার জানাজা পড়াতে অপারগতা প্রকাশ করেন স্থানীয় মসজিদের ঈমাম। এছাড়া পাওয়া যাচ্ছিল না কবরের জায়গাও।
সমস্যা সমাধানে এগিয়ে আসে স্থানীয় বেসরকারি শাপলা মহিলা সংস্থা। বুধবার বিকেল ৪টার দিকে উপজেলার অম্বিকাপুর পৌর শ্মশানের এক কোণায় মরদেহের কবর দেওয়ার ব্যবস্থা করে সংস্থাটি।
সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক চঞ্চলা মণ্ডল ঢাকা ট্রিবিউনকে জানান, বুধবার দুপুরে শাপলা মহিলা সংস্থার অর্থায়নে পতিতালয় থেকে মর্জিনা বেগমের মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় অম্বিকাপুর শ্মশানে। সেখানে সংস্থার কর্মীরা মরদেহের গোসল করান। একজন কর্মী জানাজা পড়ান। এরপর তারাই কবর খুঁড়ে মরদেহ দাফন করেন।
তিনি বলেন, “মানুষের পাপ-পূণ্যের হিসেব-নিকাশ তো আমরা করতে পারি না। আলীপুর কবরস্থানসহ পৌর এলাকার কোনো কবরস্থানে যৌনকর্মীদের কবর দেওয়ার অনুমতি পাওয়া যায় না। এমনকি মরদেহ বহনের খাটিয়াটাও পাওয়া যায় না। এর আগে দৌলতদিয়াতেও একই সমস্যা ছিল। পুলিশ প্রশাসনের সহায়তায় সেই সমস্যার সমাধান হয়েছে। ফরিদপুরের যৌনকর্মীদের দাফনের বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলেছি; কিন্তু সুষ্ঠু সমাধান পাইনি।”
ডিক্রিরচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মেহেদি হাসান মিন্টু ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “সমাজ পতিতাদের অন্য চোখে দেখে। তারা মারা গেলে কোনো প্রকার সহযোগিতা করে না। তাদের মরদেহ বহনের খাটিয়া ইউনিয়ন পরিষদ থেকে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যদের এ বিষয়ে সহায়তা করতে বলা হয়েছে।”
ফরিদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার লিটন ঢালী বলেন, “দাফনের বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে কথা বলব। যেন তাদের (যৌনকর্মী) দাফনে কোনো প্রকার সমস্যা না হয়। প্রয়োজনে তাদের দাফনের জন্য আলাদা খাস জমির ব্যবস্থা করা হবে। আর জানাজা পড়ানোর বিষয়ে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ঈমামদের সঙ্গে কথা বলব।”