দেশের চার কোটি মানুষের জীবনযাপনের মান ইউরোপের মানুষের মতো বলে দাবি করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।
তিনি বলেছেন, “আমাদের দেশের ১৭ কোটি মানুষের মধ্যে ৪ কোটি মানুষের ক্রয়ক্ষমতা ইউরোপের মানুষের সমান। এই ৪ কোটি মানুষ দাম দিয়ে ভালো পণ্য কিনতে পারেন।”
মঙ্গলবার (১৭ অক্টোবর) রাজধানীর বসুন্ধরার ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটিতে এক অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।
দেশে বেশ কয়েক মাস ধরে মূল্যস্ফীত ঊর্ধ্বগতিতে রয়েছে। বিশেষ করে খাদ্যপণ্যে মূল্যস্ফীতি সবচেয়ে বেশি। এর প্রভাব পড়েছে মানুষের ক্রয় ক্ষমতার ওপর। বেশিরভাগ মানুষ পরিবারের ব্যয়ভার মেটাতে অতিরিক্ত কাজে যুক্ত হচ্ছেন। যাদের কাজের সুযোগ নেই তারা- খাদ্য তালিকায় কাচি চালিয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে এ কথা বললেন বাণিজ্যমন্ত্রী।
এই অনুষ্ঠানে দেশের ডলারের সংকটের কথা তুলে ধরেন এফবিসিসি সভাপতি মাহবুবুল আলম। তিনি বলেন, “রপ্তানি বাড়ানো গেলে ডলারের সংকট কিছুটা হলেও নিরসন হতো।”
অনুষ্ঠানে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস-চেয়ারম্যান এ এইচ এম আহসান রপ্তানিতে পণ্যের বহুমুখিকরণের তাগিদ দেন।
প্রসঙ্গত, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের বিপিএম ৬-এর সংজ্ঞা অনুসারে বাংলাদেশের নিট আন্তর্জাতিক রিজার্ভ এখন ১৮ বিলিয়ন ডলারের নিচে। অন্যদিকে রেমিট্যান্স প্রবাহ ও রপ্তানি আয়ও আগের তুলনায় কমছে বলে সংবাদমাধ্যমে খবর বেরিয়েছে।
দেশে গত কয়েক মাস ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতি দেশের নির্দিষ্ট আয়ের মানুষদের ভোগান্তিতে ফেলেছে। এ বছরের সেপ্টেম্বরে খাদ্য মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ১২.৩৭%; এটি গত বছরের একই সময়ের চেয়ে প্রায় তিন শতাংশীয় পয়েন্ট বেশি। খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৭.৮২%।
বিশ্বব্যাংকের মতে, মূল্যস্ফীতি ভোক্তাদের ক্রয় ক্ষমতা কমিয়েছে। ক্রেতারা ব্যক্তিগত খরচ আনুমানিক ৭.৫% থেকে ৩.৫% এ কমাতে বাধ্য হচ্ছেন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, মূল্যস্ফীতির ফলে যাদের সুযোগ আছে তারা অতিরিক্ত খরচ মেটাতে অতিরিক্ত কাজ করছেন। কিন্তু যাদের কাজ করার সুযোগ নেই, তারা খাদ্য ও অন্যান্য জিনিসের ব্যবহার কমিয়ে দিচ্ছেন।