সাভারের আশুলিয়ায় ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এলাকাবাসীর সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত তিনজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। আহত শিক্ষার্থীদের মধ্যে একজনকে সাভারের এনাম মেডিকেলে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বাকিদের বিশ্ববিদ্যালয়টির মেডিকেল সেন্টার প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে ৬ নভেম্বর থেকে ১৬ নভেম্বর পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। যত দ্রুত সম্ভব শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রবিবার (৫ নভেম্বর) বিকেলে ক্যাম্পাসসংলগ্ন চান্দগাঁও এলাকায় স্থানীয়দের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এরপর মাইকে ঘোষণা দিয়ে লোকজন জড়ো স্থানীয়রা ক্যাম্পাসের একাডেমিক ভবনে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে বলে অভিযোগ উঠেছে। এসময় ইট-পাটকেলের আঘাতে তিনজন শিক্ষার্থী আহত হন।
শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সম্প্রতি কয়েকজন ব্যক্তির মারধরে বিশ্ববিদ্যালয়টির বস্ত্র প্রকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মো. হাসিবুল ইসলাম ওরফে অন্তর (২২) নিহত হন। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বিচারের দাবিতে রবিবার বিকেলে ক্যাম্পাসসংলগ্ন সড়কে মানববন্ধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এ সময় শিক্ষার্থীরা চান্দগাঁও এলাকার দোকানপাট বন্ধ করে দেন। এতে ক্ষুব্ধ হন দোকনদাররা। এছাড়া শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করে বলেও জানা গেছে। সড়ক বন্ধ হওয়ায় আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এলাকাবাসী। এরপর তারা জড়ো হতে থাকেন।
এরপর শিক্ষার্থীরা সেখান থেকে ক্যাম্পাসে ফিরে উপাচার্যের কাছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য পুলিশ বক্স স্থাপনসহ বিভিন্ন দাবি জানান। এর মধ্যেই খবর আসে এলাকার লোকজন ক্যাম্পাসের ইউনুস খান স্কলার গার্ডেন-১ হলের পাশে মারমুখী অবস্থান নিয়েছে। এতে শিক্ষার্থীরা উত্তেজিত হয়ে ক্যাম্পাসের সামনের সড়কে গিয়ে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকে। শিক্ষার্থীরা বেশ কয়েকটি দোকানে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। এ সময় স্থানীয়রা মাইকে ঘোষণা দিয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায়।
এতে উভয় পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এছাড়া এলাকাবাসীরা দেশীয় বিভিন্ন অস্ত্র নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইঞ্জিনিয়ারিং কমপ্লেক্সের জানলার কাঁচ ভাঙচুর করে।
চান্দগাঁও মোল্লা মার্কেটের ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি শাহরিয়ার সুমন ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়টির এক শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় আকরান এলাকার লোকজনের সঙ্গে গত কয়েকদিন ধরে সমস্যা চলছিল। আমাদের সঙ্গে কোনো সমস্যা ছিল না। কিন্তু গত ২-৩ দিন ধরে শিক্ষার্থীরা আমাদের দোকানগুলো বন্ধ করে দিচ্ছে। গতকাল ওরাই আবার খুলতে বলে। আজ আবার বন্ধ করতে বলে। আমরা দোকান বন্ধ করি। সন্ধ্যার পর হটাৎ করে শিক্ষার্থীরা মার্কেটের ৭০টি দোকান ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট করে।”
ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিভাগের সহকারি অধ্যাপক এজাজ উর রহমান বলেন, “আমাদের ২-৩ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। তবে তাদের আঘাত গুরুতর নয়। তাদের সবাইকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।”
সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দীপক চন্দ্র সাহা বলেন, “উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলে তদন্ত করে এ ব্যাপারে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”