নির্বাচনী সহিংসতা মোকাবিলায় কঠোর অবস্থানে ইসি

নির্বাচন কমিশন ঘোষিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হবে আগামী বছরের ৭ জানুয়ারি। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এখনো রাজনৈতিক বিপরীত মেরু লক্ষ্য করা যাচ্ছে দুই প্রধান রাজনৈতিক শিবিরে। এমন অবস্থায় সহিংসতার আশঙ্কা রয়েছে। ইসি বলছে, এটি মাথায় রেখেই তারা পদক্ষেপ নিয়ে এগোচ্ছেন। যেকোনো সহিংসতা মোকাবিলা করাই তাদের লক্ষ্য।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও দুটি গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানদের সঙ্গে বৈঠকে ইসি কর্মকর্তারা এই বার্তা দিয়েছেন। সূত্র জানায়, নিজেদের সম্পৃক্ত না করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কৌশলের ওপরই নির্ভর করবে ইসি। সহিংসতার কারণে কোনো নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে- তবে তার দায় নেবে না ইসি।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বৃহস্পতিবার (২৩ নভেম্বর) সারাদেশে মোট ২৩৩ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করেছে ইসি। এটি স্থানভেদে কোথাও কোথাও বাড়ানোর চিন্তা রয়েছে ইসির।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার একজন শীর্ষ কর্মকর্তা ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “আমরা ঝামেলামুক্ত নির্বাচন নিশ্চিত করতে আমাদের সক্ষমতা ও জনবলের বিষয়ে ইসিকে অবহিত করেছি। সহিংসতার মাধ্যমে নির্বাচনে কারচুপির চেষ্টা হলে তা ঠেকিয়ে দেওয়া হবে।”

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়ালও মনে করেন, নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসবে, পুরো পরিস্থিতি ততই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে।

নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে কর্মকর্তাদের দিয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার পদ পূরণের পরিকল্পনা ছিল ইসির। কিন্তু বিএনপি ও সমমনা দলগুলোর চলমান অবরোধ-হরতালের কারণে সৃষ্ট অস্থিতিশীল পরিস্থিতি বিবেচনায় ইসি পরবর্তীতে পরিকল্পনা পরিবর্তন করে।

ইসি কর্মকর্তারা জানান, প্রত্যেক জেলায় অন্তত ৫০ জন রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালনের কথা ছিল।

নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঢাকা ও চট্টগ্রাম সিটির বিভাগীয় কমিশনার এবং ৬৪ জন জেলা প্রশাসক রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করবেন। এছাড়া সহকারী রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করবেন উপজেলা নির্বাহী অফিসারেরা। আর জেলা নির্বাচন কর্মকর্তারা সহকারী নির্বাচন কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

গত ১৫ নভেম্বর তফসিল ঘোষণা করেন সিইসি কাজী হাবিবুল আউয়াল। সেসময় তফসিল ঘোষণায় তিনি জানান, নির্বাচনে ৬৬ জন রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ৫৯২ জন সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা নিয়োগ দিতে কাজ করছে ইসি।

সিইসি আউয়াল বলেন, যেকোনো মূল্যে যেকোনো পরিবেশে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে কমিশন বদ্ধপরিকর।

তবে তড়িঘড়ি করে তফসিল ঘোষণার কারণে রাজনৈতিক সমঝোতার সুযোগ আরও কঠিন হয়ে পড়েছে বলে মনে করেন নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন কমিশনার ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “তফসিল ঘোষণার আগে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বিতর্কিত বিষয়গুলো নিষ্পত্তিতে ‘রাজনৈতিক আলোচনা’ করার কথা ছিল ইসির। এটি নিয়ে আলোচনাও হয়েছিল।”

তবে তফসিল ঘোষণার পর ইসি এখন অবাধ ও সুষ্ঠু ভোট নিশ্চিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তার ওপর নির্ভর করছে। এবং যেকোনো ধরনের নৈরাজ্য মোকাবিলায় বদ্ধপরিকর সাংবিধানিক এই প্রতিষ্ঠানটি।

তফসিল অনুযায়ী, দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে আগামী বছরের ৭ জানুয়ারি। ওই দিন সকাল ৮টা থেকে টানা ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ৩০ নভেম্বর। মনোনয়নপত্র বাছাই হবে ১ থেকে ৪ ডিসেম্বর। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ১৭ ডিসেম্বর। প্রতীক বরাদ্দ ১৮ ডিসেম্বর। সেদিন থেকেই প্রচারণা শুরু করতে পারবেন প্রার্থীরা।