দেশের বহু নাগরিক সম্প্রতি নতুন ভোটার হিসেবে নিবন্ধন সম্পন্ন করলেও এখনো হাতে পাননি প্লাস্টিক এনআইডি কার্ড। ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা, নতুন সিম ক্রয়, চাকরির আবেদন কিংবা ড্রাইভিং লাইসেন্সের মতো জরুরি কাজে এনআইডি কার্ডের প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্য। ফলে অনেককে ভোগান্তিতে পড়তে হয়। তবে এখন আর এনআইডি কার্ড পেতে নির্বাচন কমিশন (ইসি) কার্যালয়ে দৌড়ঝাঁপ করার প্রয়োজন নেই; ঘরে বসেই অনলাইনের মাধ্যমে জাতীয় পরিচয়পত্রের ডিজিটাল বা সফট কপি ডাউনলোড করা সম্ভব।
বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের অনলাইন পোর্টালে নিবন্ধনের মাধ্যমে নতুন ভোটাররা সহজেই তাদের এনআইডির পিডিএফ কপি সংগ্রহ করতে পারবেন, যা যেকোনো অফিশিয়াল কাজে মূল কার্ডের মতোই গ্রহণযোগ্য।
যেসব তথ্য ও প্রযুক্তি আগে থেকে প্রস্তুত রাখবেন
অনলাইনে এনআইডি কার্ড ডাউনলোডের প্রক্রিয়াটি শুরু করার আগে কিছু প্রয়োজনীয় তথ্য ও ডিভাইস হাতের কাছে রাখতে হবে:
১. ভোটার নিবন্ধনের সময় পাওয়া স্লিপ বা ফরম নম্বর অথবা ১৭ ডিজিটের এনআইডি নম্বর।
২. নিবন্ধিত ভোটারের সঠিক জন্মতারিখ।
৩. একটি সচল মোবাইল নম্বর (ওটিপি পাওয়ার জন্য)।
৪. নিবন্ধন ফরমে প্রদত্ত বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানার তথ্য (বিভাগ, জেলা ও উপজেলা)।
৫. ফেস ভেরিফিকেশনের (মুখমণ্ডল যাচাই) জন্য সামনের ক্যামেরা যুক্ত একটি অ্যান্ড্রয়েড বা আইফোন।
৬. সংশ্লিষ্ট ফোনে গুগল প্লে-স্টোর বা অ্যাপ স্টোর থেকে ডাউনলোড করা নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধিত ‘NID Wallet’ অ্যাপ।
ধাপ ১ (ওয়েবসাইটে প্রবেশ ও রেজিস্ট্রেশন): প্রথমে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের অফিসিয়াল এনআইডি সার্ভিসেস পোর্টালে (services.nidw.gov.bd) প্রবেশ করে ‘রেজিস্ট্রেশন করুন’ অপশনে ক্লিক করতে হবে। এরপর নির্দিষ্ট ঘরে ফরম নম্বর বা এনআইডি নম্বর এবং জন্মতারিখ লিখে স্ক্রিনে থাকা ক্যাপচা পূরণ করে ‘সাবমিট’ বাটনে চাপ দিতে হবে।
ধাপ ২ (ঠিকানা ও মোবাইল নম্বর যাচাই): পরবর্তী পেজে নিবন্ধনের সময় দেওয়া বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানার তথ্য সঠিকভাবে নির্বাচন করতে হবে। এরপর সচল মোবাইল নম্বরটি দিয়ে ‘বার্তা পাঠান’ অপশনে ক্লিক করলে ফোনে একটি এককালীন পাসওয়ার্ড (OTP) আসবে। ওটিপিটি নির্দিষ্ট ঘরে বসিয়ে নম্বর যাচাই শেষ করতে হবে।
ধাপ ৩ (ফেস ভেরিফিকেশন): ওটিপি যাচাই শেষে স্ক্রিনে একটি কিউআর কোড ভেসে উঠবে। এ পর্যায়ে স্মার্টফোনে পূর্বে ডাউনলোড করা ‘NID Wallet’ অ্যাপটি ওপেন করে স্ক্রিনের কিউআর কোডটি স্ক্যান করতে হবে। অ্যাপে ক্যামেরা চালু হলে নির্দেশনা অনুযায়ী ডান, বাম ও সোজা তাকিয়ে নিজের মুখের ছবি মিলিয়ে ফেস ভেরিফিকেশন সফল করতে হবে।
ধাপ ৪ (পাসওয়ার্ড সেট ও কার্ড ডাউনলোড): চেহারা যাচাই সম্পন্ন হওয়ার পর পোর্টালে পুনরায় অ্যাকাউন্টের জন্য একটি নতুন পাসওয়ার্ড সেট করার অপশন আসবে। পাসওয়ার্ড সেট করে অ্যাকাউন্টে লগইন করলেই ব্যবহারকারীর প্রোফাইল দেখা যাবে। সেখান থেকে ‘ডাউনলোড’ অপশনে ক্লিক করলেই জাতীয় পরিচয়পত্রের কালার পিডিএফ কপি চলে আসবে, যা প্রিন্ট বা লেমিনেটিং করে সব কাজে ব্যবহার করা যাবে।
অনেক সময় নতুন ভোটারদের ডাটাবেজ সিস্টেমে আপডেট হতে কিছুদিন সময় লাগে। তাই কোনো তথ্য না দেখালে কয়েকদিন পর পুনরায় চেষ্টা করার পরামর্শ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
এছাড়া ফেস ভেরিফিকেশন বারবার ব্যর্থ হলে পরিচ্ছন্ন লেন্সসহ পর্যাপ্ত আলো রয়েছে এমন স্থানে দাঁড়িয়ে চেহারার ছবি তুলতে হবে। মোবাইলে ওটিপি পেতে সমস্যা হলে নেটওয়ার্ক চেক করে কিছুক্ষণ পর চেষ্টা করতে হবে। সকল প্রক্রিয়া অনুসরণের পরেও কোনো প্রযুক্তিগত জটিলতা থেকে গেলে কিংবা তথ্য না মিললে নির্বাচন কমিশনের ফ্রি হেল্পলাইন ১০৫ নম্বরে কল করে সরাসরি সহায়তা পাওয়া যাবে।



