দেশে এইডসে রেকর্ড মৃত্যু-আক্রান্ত

দেশে এইডসে এক বছরে ২৬৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর আগে কোনো বছর এত মানুষের মৃত্যু হয়নি। একই সময়ে এতে আক্রান্ত হয়েছেন ১,২৭৬ জন।

এটি এক বছরে সর্বোচ্চ আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা।

দেশে প্রথম এইডস রোগী শনাক্ত হয় ১৯৮৯ সালে; আর প্রথম মৃত্যুর ঘটনা ঘটে ২০০০ সালে। ওই বছর একজনের মৃত্যুর তথ্য দিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

এরপর থেকে প্রায় প্রতিবছর এইডসে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েছে। ২০২১ সালের বিশ্ব এইডস দিবসে ২০৫ জনের মৃত্যুর কথা বলেছিল অধিদপ্তর।

২০২২ সালে এইডস আক্রান্ত হয়েছিল ৯৪৭ জন, আর মৃত্যু হয়েছিল ২৩২ জনের।

বুধবার (২৭ ডিসেম্বর) সকালে জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের অডিটরিয়মে এইডস দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানানো হয়।

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জাতীয় যক্ষ্মা, কুষ্ঠ ও এইডস নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির লাইন ডিরেক্টর ডা. মাহফুজুর রহমান এক উপস্থাপনায় এসব তথ্য তুলে ধরেন।

তিনি জানান, ১৯৮৯ সালে দেশে প্রথম এইডস রোগী শনাক্ত হওয়ার পর থেকে এক বছরে আক্রান্ত এবং মৃত্যুর সর্বোচ্চ সংখ্যা এ বছরেই হয়েছে।

এ পর্যন্ত দেশে এইডসে আক্রান্ত মোট রোগীর সংখ্যা ১০,৯৮৪ জন। আর মৃত্যু হয়েছে ২,০৮৬ জনের। বাংলাদেশে এইচআইভি ভাইরাস বহনকারী মানুষের সংখ্যা ১৫ হাজারের বেশি।

এ বছর এইডস আক্রান্তদের মধ্যে বাংলাদেশি ১,১১৮ জন, বাকিরা কক্সবাজারের বিভিন্ন ক্যাম্পে বসবাস করা রোহিঙ্গা।

এক বছরে আক্রান্ত বাংলাদেশি নাগরিকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৩৪২ জন রোগী ঢাকার। এ ছাড়া, চট্টগ্রামে ২৪৬, রাজশাহীতে ১৭৫, খুলনায় ১৪১, বরিশালে ৭৯, সিলেটে ৬১, ময়মনসিংহে ৪০ ও রংপুর জেলায় ৩৪ জন এইডস রোগী শনাক্ত হয়েছে।

শনাক্তদের মধ্যে ৮৫০ জন পুরুষ ও ২৭৮ জন নারী। আর ৯ জন তৃতীয় লিঙ্গের।

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক এ বি এম খুরশীদ আলম বলেন, “এইডস আক্রান্তদের দূরে সরিয়ে রাখা যাবে না। সরকার এইডসের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসা, ওষুধসহ সব ধরনের সেবা দিচ্ছে। আমাদের এখানে অপারেশনসহ চিকিৎসায় রি-ইউজেবল (পুনর্ব্যবহারযোগ্য) অনেক কিছু ব্যবহার করা হয়। ওই জিনিসগুলো জীবাণুমুক্ত করার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। নইলে দেখা যাবে একজন ব্যক্তি কোলনস্কপি, এন্ডোস্কপি বা যে কোনো এক একটা স্বাস্থ্যপরীক্ষা করাতে এসে আক্রান্ত হয়ে গেলেন।”

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে বলা হয়, পুরুষ যৌনকর্মীদের মধ্যে এইডস আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। এ ছাড়া পুরুষ সমকামীদের মধ্যেও এই রোগ ছড়াচ্ছে। যারা ইনজেকশন ব্যবহার করে শিরায় মাদক নেন, সেইসব মাদকসেবীরাও এইডসে আক্রান্ত হচ্ছেন।