যশোরের মনিরামপুর উপজেলার ধনপোতা গ্রামে ঝোপ-ঝাড়ে ভরা একটি উঁচু ঢিবি খুঁড়ে প্রাচীন নিদর্শনের সন্ধান পেয়েছে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর। সেখানে এখনও খননকাজ চলছে। এ স্থাপনা আনুমানিক ১,২০০ বছর আগের বলে ধারণা করছেন গবেষকরা।
প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ের একটি দল গত ১০ ডিসেম্বর ধনপোতা ঢিবিতে খননকাজ শুরু করে। শুরুতে দুটি চওড়া ইটের দেয়ালের সন্ধান পাওয়া যায়। ঢিবিতে পাওয়া ইটের সঙ্গে কেশবপুরের ভরতভায়নার ভরতের দেউল এবং মনিরামপুরের দোনার এলাকার দমদম পীরের ঢিবির ইটের মিল রয়েছে।
প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ২০০৬ সালে প্রথম মনিরামপুরের দমদম পীরের ঢিবিতে খনন কাজ করা হয়। তখন অনুসন্ধান চালিয়ে উপজেলার খেদাপাড়া ইউনিয়নের ধনপোতা ঢিবির সন্ধান পাওয়া যায়।
অধিদপ্তর জানায়, গত ১০ ডিসেম্বর শুরু হওয়া খননকাজের দ্বিতীয় দিনেই একটি দেয়ালের সন্ধান মেলে। পরবর্তীতে দৃষ্টিগোচর হয় আরও একটি দেয়াল। দেয়ালের গাঁথুনি কাদামাটি নির্মিত। দেয়ালে জমাট বাঁধা চুনের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। পাশাপাশি দেয়ালে দুই ধরনের ইট পাওয়া গেছে। একটি ইটের দৈর্ঘ্য ৩২ সেন্টিমিটার, প্রস্থ ১৬ সেন্টিমিটার এবং উচ্চতা ৫.৫ সেন্টিমিটার এবং অপরটির দৈর্ঘ্য ৩৬ সেন্টিমিটার, প্রস্থ ২২ সেন্টিমিটার এবং উচ্চতা ৬ সেন্টিমিটার।
এছাড়া খননে মৃৎপাত্র, পাথরের টুকরা, বাটি, পশুর হাড় ও লোহার পেরেক পাওয়া গেছে।
ঝোপের আড়ালে চাপা পড়া ইতিহাস
ধনপোতা ঢিবির মালিক খেদাপাড়া গ্রামের ছয় ব্যক্তি।
তাদের একজন প্রতাপ বিশ্বাস বলেন, ‘‘ঢিবিটিতে জমির পরিমাণ ৫৭ শতক। এটি আমাদের ঠাকুরদাদাদের পৈতৃক সম্পত্তি। আমাদের সাত পুরুষ এখানে কখনও কোনো বসতি দেখেননি। ঢিবিটি পরিত্যক্ত অবস্থায় ঝোপঝাড়ে ভরে ছিল। এখন সেখানে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর খনন করছে।’’
ধনপোতা এলাকার কলেজশিক্ষক মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, ‘‘ছোটবেলায় আমরা এই ঢিবির আশেপাশে ভিড়তে পারতাম না। গোটা ঢিবিজুড়ে জঙ্গল। পাঁচ হাত দূরের জিনিসও দেখা যেত না। কিছুদিন হলো বন-লতা সরিয়ে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের লোকজন এখানে খননকাজ শুরু করেছে।’’
এ বিষয়ে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর খুলনা বিভাগের আঞ্চলিক পরিচালক লাভলী ইয়াসমিন বলেন, ‘‘ধনপোতা ঢিবি খননে এখন পর্যন্ত দুটি চওড়া ইটের দেয়ালের সন্ধান পাওয়া গেছে। ঢিবিতে পাওয়া ইট ও গাঁথুনির সঙ্গে কেশবপুরের ভরতভায়নার ভরতের দেউল এবং মনিরামপুরের দোনার এলাকার দমদম পীরের ঢিবির ইট ও গাঁথুনির সঙ্গে সাদৃশ্য রয়েছে। খননকাজ চলছে।’’
এই প্রাচীন স্থাপনার ধরন এখনই নিশ্চিত করে বলতে পারেননি গবেষকরা। খননকাজ শেষ হলে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে। জানুয়ারি মাসজুড়ে সেখানে খননকাজ চালাবে অধিদপ্তর।