মহিলা মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ, ‌‘পালিয়ে গেলেন’ শিক্ষকরা

গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে এক শিক্ষার্থীকে (১০) ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে এক মাদ্রাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে। নির্যাতিত শিক্ষার্থী ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। খবর পেয়ে রাতেই আবাসিক মাদ্রাসায় গিয়ে কোনো শিক্ষককে পায়নি পুলিশ। এদিকে, নির্যাতনের শিকার শিশুটি অসুস্থ অবস্থায় অভিযুক্তের নাম জানাতে পারেনি।

বুধবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাত ৮টার দিকে উপজেলার বাঁশবাড়িয়া পরিজান বেগম মহিলা কওমি মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটে। মেয়েটি পাশবিক নির্যাতনের শিকার বলে নিশ্চিত করেছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. দ্বীপ সাহা।

মুকসুদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আশরাফুল আলম জানান, রাতে মাদ্রাসা থেকে অসুস্থ অবস্থায় বাড়িতে ফেরে ওই শিক্ষার্থী। পোশাকে রক্ত দেখে স্বজনরা তাকে মুকসুদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাপাতালে পাঠানো হয়। মাদ্রাসার এক শিক্ষক তাকে নির্যাতন করেছে বলে ওই শিক্ষার্থী জানিয়েছে।

ওসি বলেন, “আমরা রাতেই বাঁশবাড়িয়া পরিজান বেগম মহিলা কওমি মাদ্রাসায় যাই। সেখানে কোনো শিক্ষককে পাওয়া যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, মাদ্রাসার কোনো শিক্ষকই এ ঘটনা ঘটাতে পারে। ধর্ষককে শনাক্তের কাজ চলছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে।”

নির্যাতনের শিকার মেয়েটির বাবা জানান, “মেয়ে বিধ্বস্ত অবস্থায় মাদ্রাসা থেকে বাড়ি ফিরলে পোশাকে রক্তের দাগ দেখে হাসপাতালে নিয়ে যাই। মেয়ে বলেছে, মাদ্রাসার হুজুর তার সাথে খারাপ কাজ করেছে। এ কথা বলেই সে অচেতন হয়ে পড়ে। আর কিছু বলতে পারেনি। হাসপাতালে ভর্তির পর ডাক্তার ও নার্স শারীরিক অবস্থা দেখে আমাদের জানায় আমার মেয়ে ধর্ষণের শিকার হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “হুজুরের কাছে দিয়েছিলাম দ্বীনের শিক্ষা নিতে, সেই হুজুর আমার মেয়েকে ধর্ষণ করল? তাহলে সন্তানের নিরাপত্তা কোথায়? কোথায় দেব শিক্ষাগ্রহণ করতে? আমি এর বিচার চাই।”

মুকসুদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক কর্মকর্তা ডা. দ্বীপ সাহা বলেন, “নার্সের সহায়তায় প্রাথমিক পরীক্ষায় শিশুটিকে ধর্ষণের আলামত মিলেছে। শারীরিক অবস্থা অবনতি হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।”