কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে খালার বাড়ি থেকে ফেনীতে ফেরার পথে ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর মায়ের জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ এ ফোনের পর তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পলাতক রয়েছেন আরও একজন।
বুধবার (১৭ জুন) দুপুরে ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে নাঙ্গলকোট থানায় তিনজনকে আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন।
গ্রেপ্তার হওয়া দুইজন হলেন উপজেলার বক্সগঞ্জ ইউনিয়নের অষ্টগ্রাম এলাকার ফয়েজ আহমেদ (২৬) এবং একই এলাকার সিএনজিচালক রিয়াজ মোল্লা (২১)। মামলার অপর আসামি আকরামকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী। কিছুদিন আগে পড়াশোনা বন্ধ করে তিনি মায়ের সঙ্গে ফেনীতে বসবাস শুরু করেন। সোমবার (১৫ জুন) বিকেলে নাঙ্গলকোটের তেতিয়া এলাকায় খালার বাড়ি থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ফেনীর উদ্দেশে রওনা হন।
অভিযোগ অনুযায়ী, পথে বোড়রা এলাকায় পৌঁছালে প্রথম সিএনজিচালক গাড়ি বিকলের অজুহাতে তাকে অন্য একটি সিএনজিতে তুলে দেন। পরে ওই সিএনজির চালক রিয়াজ মোল্লা জাকিরের মোড় এলাকা থেকে ফয়েজ আহমেদকে গাড়িতে তোলেন। ফেনীতে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে তারা বিভিন্ন এলাকায় ঘোরানোর পর রাতের দিকে একটি টিনশেড ঘরে নিয়ে যায়। সেখানে রিয়াজ, ফয়েজ ও তাদের সহযোগী আকরাম কিশোরীকে রাতভর সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীর মা জানান, সারা রাত মেয়ের কোনো খোঁজ না পেয়ে তিনি উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। পরদিন সকালে মেয়েটি অসুস্থ অবস্থায় বাড়ি ফিরে পুরো ঘটনার বর্ণনা দেয়। এরপর তিনি মেয়েকে নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ এ ফোন করে পুলিশের সহায়তা চান।
৯৯৯ এর পুলিশ পরিদর্শক (গণমাধ্যম ও জনসংযোগ) আনোয়ার সাত্তার জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি দ্রুত নাঙ্গলকোট থানায় জানানো হয়। পরে এসআই আলমগীরের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল তথ্যপ্রযুক্তি ও স্থানীয় সূত্রের সহায়তায় অভিযান চালিয়ে দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে।
নাঙ্গলকোট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান বলেন, “ভুক্তভোগীর মায়ের দায়ের করা মামলায় দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং পলাতক অপর আসামিকে ধরতে অভিযান চলছে। গ্রেপ্তারদের আদালতে পাঠানো হবে এবং ভুক্তভোগীর ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।”



