বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনী তাদের কাজের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
তিনি বলেন, ‘আমাদের পুলিশ বাহিনী এখন মানুষের বন্ধু হিসেবে কাজ করছে। আজকাল মানুষ আর আগের মতো পুলিশকে ভয় পায় না। এখন তারা আস্থা ফিরে পেয়েছে। পুলিশকে নিজের বন্ধু এবং আস্থার জায়গা হিসেবে সাধারণ মানুষ বিবেচনা করে।”
পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে সরকারপ্রধান আরও বলেন, “মানুষের জন্য কাজ করে আপনারা তাদের হৃদয়ে একটা স্থান করে নিয়েছেন। মানুষের সেই আস্থা ও বিশ্বাস সবচেয়ে বড় কথা। যেকোনো কর্মস্থলেই হোক না কেন, সেখানে নারী, পুরুষ, শিশু যেই থাকুক, তাদের আপনজন হিসেবে বিবেচনা করেই দায়িত্ব পালন করবেন। তাদের সেবা করবেন, এটা সবাই চায়।
তিনি নিজ নিজ কর্মস্থলে অধস্তনদের তার এই নির্দেশনা জানানো এবং দেশের মানুষের পাশে থেকে তাদের সেবা করে যাওয়ার জন্য পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানান।
বৃহস্পতিবার (২৯ ফেব্রুয়ারি) প্রধানমন্ত্রী তার কার্যালয়ের (পিএমও) শাপলা হলে “পুলিশ সপ্তাহ-২০২৪” উপলক্ষে বাংলাদেশ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সভায় দেওয়া ভাষণে এসব কথা বলেন।
আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির এই যুগে প্রতিনিয়ত অপরাধের ধরন পাল্টাচ্ছে। তাই নতুন ধরনের অপরাধ মোকাবিলায় পুলিশকে প্রস্তুতি নিতে হবে বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, “প্রযুক্তির উৎকর্ষ যত বৃদ্ধি পাচ্ছে, অপরাধও কিন্তু ভিন্ন ভিন্নভাবে হচ্ছে। নতুন নতুন মাত্রায় অপরাধ দেখা দিচ্ছে। অপরাধের সঙ্গে সঙ্গে সেটাকে মোকাবিলা করার পদ্ধতিও যদি সমানতালে না চলে, তাহলে কিন্তু যথাযথভাবে সেটা করা যায় না। এ জন্যই আমরা সেভাবেই চেষ্টা করে যাচ্ছি।
আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মানুষ হত্যা, পুলিশকে মারা, পুলিশ হত্যাসহ সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের যে মামলাগুলো রয়েছে, এর দীর্ঘসূত্রতা প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, “আমি মনে করি যারা এই ধরনের অপরাধ করে তাদের মামলাগুলো যদি যথাযথভাবে চলে এবং যদি দ্রুত সাজা হয়ে যায়, তাহলে আর অপরাধ করার সাহস পাবে না। সেই লক্ষ্যে আগামীতে যেন আর কেউ এভাবে পুলিশের ওপর আক্রমণ করতে না পারে সেভাবে পুলিশ বাহিনীকে প্রস্তুত থাকতে হবে।”
“স্মার্ট পুলিশ, স্মার্ট দেশ, শান্তি প্রগতির বাংলাদেশ” প্রতিপাদ্যে গত মঙ্গলবার রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে ছয় দিনব্যাপী পুলিশ সপ্তাহ-২০২৪ শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এর উদ্বোধন করেন।