ঢামেকে আহাজারি, স্বজনদের খুঁজছেন সবাই

ঢাকার বেইলি রোডে বহুতল ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এখনও অনেকেই নিখোঁজ। হতাহতদের নিয়ে একের পর এক অ্যাম্বুলেন্স আসছে হাসপাতালে। সেখানেই ভিড় করছেন হতাহতদের স্বজনরা। কর্তব্যরত পুলিশ ও ডাক্তারদের ছবি দেখিয়ে নিখোঁজদের খুঁজে বেড়াচ্ছেন তারা। তবে চিকিৎসকরা দিচ্ছেন অপেক্ষার পরামর্শ। স্বজনদের খুঁজে না পেয়ে এদিক সেদিক ছোটাছুটি করছেন ও চিৎকার করে কাঁদছেন অনেকেই।

রাত একটা থেকে একটা ২০ মিনিট পর্যন্ত ঢাকা মেডিকেলের জরুরি বিভাগের সামনে এমন পরিস্থিতি দেখা যায়। অ্যাম্বুলেন্স থেকে আহত ব্যক্তিদের নামানোর সঙ্গে সঙ্গেই যেন নির্বিঘ্নে মেডিকেলে প্রবেশ করানো যায়, সে জন্য জরুরি বিভাগের ফটকে ট্রলি প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

এমনই একজন নাঈমুল ইসলাম। ঢামেক জরুরি বিভাগে বড় ভাই সাইফুল ইসলামের খোঁজে এসেছেন তিনি। বলেন, আগুন লাগার পর তার ভাই ফোন করে বলেছিলেন চিন্তা না করতে। এর কিছুক্ষণ পর থেকেই তার ফোন বন্ধ হতে যায়। এখন বার্ন ইউনিট ও জরুরি বিভাগে আহতদের মধ্যে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না তাকে।

ঢামেক জরুরি বিভাগের সামনের মেঝেতে বসে আহাজারি করা পাপিয়া আক্তার জানান, তার মেয়ে অগ্নিকাণ্ডের সময় কাচ্চি ভাই রেস্টুরেন্টে ছিলেন। মেয়ের সন্ধান না পেয়ে এখন জরুরি বিভাগের সামনে আছেন তিনি। ডাক্তাররা তাকে অপেক্ষা করার পরামর্শ দিয়েছেন বলে জানান তিনি।

এদিকে বেইলিরোডে অগ্নিকাণ্ডে আহতদের ঢামেক জরুরি বিভাগে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে, তাই জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা অন্যান্য রোগীদের ঢামেক নতুন ভবনে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক আসাদুজ্জামান জানান, অগ্নিকাণ্ডে আহতদের জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসা দেওয়ার জন্য এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এ সময় জরুরি বিভাগের বাইরে অবস্থানরত পুলিশ ও আনসার সদস্যরা অগ্নিকাণ্ডের বাইরে অন্যান্য সমস্যা নিয়ে যারা জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসছেন তাদের নতুন বিল্ডিং এ যাওয়ার জন্য অনুরোধ করছেন।

বৃহস্পতিবার রাত ৯টা ৫০ মিনিটের দিকে ভবনটির দ্বিতীয় তলায় ‘‘কাচ্চি ভাই’’ নামের একটি খাবারের দোকানে আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিসের ১২টি ইউনিটের চেষ্টায় রাত ১১টা ৫০ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

দিবাগত রাত ২টার দিকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সামন্ত লাল সেন জানিয়েছেন, অগ্নিকাণ্ডে কমপক্ষে ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দ্বিতীয় তলায় আগুনের সূত্রপাত। দ্রুতই আগুন উপরের তলাগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। ভেতরে থাকা লোকজন আতঙ্কে উপরে উঠে যায়। ভবন থেকে তাড়াহুড়ো করে নামতে গিয়ে কয়েকজন আহত হন। তাদের মধ্যে ১২ জনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, মৃতের মধ্যে ৩৩ জনের মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ এবং ১০ জনের মরদেহ শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে রাখা হয়েছে। আর ভবনটি থেকে ১১৭ জনকে উদ্ধারের কথা জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।

এদিকে এ ঘটনায় ফায়ার সার্ভিস পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বলে জানান সংস্থাটির মিডিয়া কর্মকর্তা আনোয়ার ইসলাম দোলন।