ওয়ারীতে অগ্নিকাণ্ডের সংবাদ সংগ্রহে সাংবাদিকদের বাধা

ঢাকার ওয়ারীতে পেশওয়ারিন নামে একটি খাবার হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের সংবাদ সংগ্রহের সময় ঢাকা ট্রিবিউন সাংবাদিকসহ কয়েকজন সাংবাদিককে বাধা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

শুক্রবার (১ মার্চ) রাত সোয়া ১০টার দিকে রেস্তোরাঁটিতে আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই স্থানীয়রা আগুন নিভিয়ে ফেলেন।

সংবাদকর্মীরা জানান, আগুনের খবর শুনে সেখানে সংবাদ সংগ্রহ করতে যান। এ সময় ওই খাবার হোটেলের কর্মীরা তাদের সংবাদ সংগ্রহে বাধা দেন।

ঢাকা ট্রিবিউনের ফেসবুক পেজে প্রচারিত ওই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ১১ মিনিটের একটি লাইভ থেকে দেখা যায়, খাবার হোটেলের এক কর্মী জানাচ্ছেন, “গ্যাস সিলিন্ডারের পাইপ ছুটে গিয়ে ওই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। খবর শুনে পূর্ণ প্রস্তুতিসহ ফায়ার সার্ভিসের ছয়টি ইউনিট সেখানে ছুটে যায়। তবে এর আগেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। এ ঘটনায় কারো কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।”

লাইভটিতে ঘুরে ঘুরে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত নানা দৃশ্য দেখাচ্ছিলেন তিনি। বিবরণে জানান, “তিনতলা ভবনের ওই খাবার হোটেলে দুটি রান্নাঘর রয়েছে। এরমধ্যে দ্বিতীয় তলার রান্নাঘরটি পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও নিচতলারটি অক্ষত রয়েছে।”

ভিডিওর ৭ মিনিট ৫০ সেকেন্ডের দিকে তাকে কেউ একজন তাকে বলতে থাকেন, “কে আপনি বাইরে যান।”

এ সময় সাংবাদিক পরিচয় দিলেও লাইভ বন্ধ করে তাকে বাইরে বেরিয়ে যেতে নির্দেশ দিতে থাকেন হোটেলের একাধিক কর্মী। তারা তাকে শাসাতে থাকেন ও বাইরে বের করে দিতে জোরাজুরি করতে থাকেন। তাদের কয়েকজনের গায়ে হোটেলের নির্ধারিত ইউনিফর্ম ছিল। তারা কেউ কেউ সিলিন্ডার থেকে আগুন লাগেনি বলেও দাবি করতে থাকেন।

ঢাকা ট্রিবিউন সাংবাদিক এস কে শরিফউদ্দিন আহাদ বলেন, “দুটি কিচেনই আমরা দেখাই। প্রথম তলার কিচেনে আসার পর ওরা সরতে বলে। তখন আমি সরে যাচ্ছিলাম। তখন ফায়ার সার্ভিসের বক্তব্য নিতে সেখানে এগিয়ে যাই। তখনই ওখানে থাকা এক হোটেলকর্মী আমাকে বের করে দিতে উদ্যত হন। এরপর আরও কয়েকজন একইভাবে বের করে দেন। ওখানে থাকা অন্য সাংবাদিকদেরও ভিডিও করা যাবে না বলে সবাইকে বের করে শাটার নামিয়ে দেন। পুলিশকে জানালে তারা সহযোগিতা করলেও হোটেলকর্মীরা বাজে আচরণ করতে থাকেন।”