ঢাকার ধানমন্ডির সাত মসজিদ সড়কের “গাউসিয়া টুইন পিক” ভবনে অভিযান চালিয়েছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। অভিযানে অনুমোদনহীন ও নকশা বহির্ভূতভাবে নির্মাণ করা ১২টি রেস্টুরেন্ট সিলগালা করা হয়েছে। একই সঙ্গে জরিমানা করা হয়েছে একটি রেস্টুরেন্টকে।
সোমবার (৪ মার্চ) দুপুরে ভবনটিতে অভিযান চালানোর পর এ সিদ্ধান্তের কথা জানান রাজউকের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাজিনা সারোয়ার।
এর আগে ভবনটির রুফটপ রেস্টুরেন্ট ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেন রাজউকের এই নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।
অভিযান শেষে তাজিনা সারোয়ার সাংবাদিকদের বলেন, “এটি মূলত ‘এফ’ ক্যাটাগরির ভবন। এই ক্যাটাগরি অনুসারে ভবনটি অফিস হিসেবে ব্যবহার করতে পারবে। কিন্তু আমরা পরিদর্শনে মাত্র দুই ফ্লোরের কিছু অংশ অফিস হিসেবে বরাদ্দ দেওয়ার বিষয়টি দেখলাম। বাকি অংশগুলোতে নিয়মের ব্যত্যয় ঘটিয়ে ১২ থেকে ১৫টি রেস্টুরেন্টকে ভাড়া দেওয়া হয়েছে। সঙ্গে ওষুধ ও কাপড়ের দোকান পেয়েছি।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা শুধু রেস্টুরেন্টগুলো সিলগালা করে দিচ্ছি।”
এর আগে, রবিবার রাতে ঢাকায় বিভিন্ন রেস্টুরেন্টে অভিযান চালিয়ে অন্তত ৩৫ জনকে আটক করে পুলিশ। পর্যাপ্ত অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা বা যথাযথ অনুমোদন না থাকার অভিযোগে তাদের আটক করা হয়। এ দিন উত্তরা, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, ধানমন্ডি, খিলগাঁও এবং পুরান ঢাকায় এ অভিযান চালানো হয়।
২৯ ফেব্রুয়ারি রাত পৌনে ১০টার দিকে বেইলি রোডের গ্রিন কোজি কটেজ ভবনে আগুন লাগে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৪৬ জন নিহত হয়েছেন। ১২ জন হাসপাতালে ভর্তি আছেন, যারা শঙ্কামুক্ত নন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। ভবনটি থেকে কমপক্ষে ৭০ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে একটি মামলা করেছে। গ্রেপ্তার করা হয়েছে চারজনকে।
অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকির পাশাপাশি বিনা অনুমোদনে ভবনটিতে আটটি রেস্টুরেন্ট চলছিল। সপ্তাহের শেষ কর্মদিবসে সেখানে খেতে ভিড় করেছিলেন নগরের বাসিন্দারা। কেউ গিয়েছিলেন সন্তানদের নিয়ে, কেউ গিয়েছিলেন স্বজনদের নিয়ে, কেউ গিয়েছিলেন বন্ধুদের সঙ্গে। কারও কারও জীবন চলত ওই ভবনের প্রতিষ্ঠানে কাজ করে।