কামরাঙ্গীরচরে হোটেল-রেস্টুরেন্টে পুলিশের অভিযান

ঢাকার কামরাঙ্গীরচরের রসুলপুর, আশরাফাবাদ, লোহারব্রিজসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ২৪টি হোটেল-রেস্তোরাঁয় অভিযান চালিয়েছে পুলিশ।

সোমবার (৪ মার্চ) রাতে চালানো এ অভিযানে অনিয়ম, অব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন অভিযোগে রেস্টুরেন্টের মালিক ও ম্যানেজারসহ ২৪ জনকে আটক করা হয়েছে।

লালবাগ জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. ইমরান হোসেন মোল্লা বলেন, “অভিযানের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে দাহ্য পদার্থ ব্যবহারে মানুষকে সচেতন করা। কোথাও অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা দেখার পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি অনেককে সতর্ক করাও হচ্ছে।”

তিনি বলেন, “হোটেল-রেস্টুরেন্টের যথাযথ অনুমোদন রয়েছে কি-না, গ্যাস সিলিন্ডার নিরাপদ স্থানে ব্যবহার হচ্ছে কি-না, নিরাপত্তা ব্যবস্থা কতটুকু টেকসই, অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র এবং ঝুঁকির বিষয়গুলো যথাযথভাবে চেক করা হচ্ছে। তবে গ্যাসের সিলিন্ডার ব্যবহারে সবাই বেশ উদাসীন।”

লালবাগ বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. মাহবুব-উজ-জামানের সার্বিক দিকনির্দেশনায় এবং জোনের এডিসি মোহাম্মদ শহিদুল ইসলামের সহযোগিতায় সহকারী পুলিশ কমিশনার (লালবাগ জোন) মো. ইমরান হোসেন মোল্লার নেতৃত্বে কামরাঙ্গীরচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম, পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. ফজলুর রহমান ও থানা ফাঁড়ির ইনচার্জসহ অন্যান্য পুলিশ সদস্যরা এ অভিযান পরিচালনা করেন।

২৯ ফেব্রুয়ারি রাত পৌনে ১০টার দিকে বেইলি রোডের গ্রিন কোজি কটেজ ভবনে আগুন লাগে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৪৬ জন নিহত হয়েছেন। ১২ জন হাসপাতালে ভর্তি আছেন, যারা শঙ্কামুক্ত নন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। ভবনটি থেকে কমপক্ষে ৭০ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে একটি মামলা করেছে। গ্রেপ্তার করা হয়েছে চারজনকে।

অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকির পাশাপাশি বিনা অনুমোদনে ভবনটিতে আটটি রেস্টুরেন্ট চলছিল। সপ্তাহের শেষ কর্মদিবসে সেখানে খেতে ভিড় করেছিলেন নগরের বাসিন্দারা। কেউ গিয়েছিলেন সন্তানদের নিয়ে, কেউ গিয়েছিলেন স্বজনদের নিয়ে, কেউ গিয়েছিলেন বন্ধুদের সঙ্গে।