ময়মনসিংহ ও কুমিল্লা সিটি করপোরেশনসহ ছয়টি পৌরসভা ও স্থানীয় সরকারের দুই শতাধিক পদে ভোটগ্রহণ চলছে। শনিবার (৯ মার্চ) সকাল ৮টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে, বিরতিহীনভাবে যা চলবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত।
এর মধ্যে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনে শুধু মেয়র পদে উপনির্বাচন হচ্ছে। অন্যদিকে, ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের মেয়াদ অবসান হওয়ায় সেখানে মেয়র ও কাউন্সিলরের সব কটি পদে ভোট হচ্ছে। ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনে দ্বিতীয় নির্বাচন এটি।
এছাড়া পটুয়াখালী জেলার পটুয়াখালী পৌরসভা, জামালপুর জেলার বকশীগঞ্জ পৌরসভা এবং বরগুনা জেলার আমতলী পৌরসভায় হচ্ছে সাধারণ নির্বাচন। ময়মনসিংহ জেলার ত্রিশাল পৌরসভা, মুন্সিগঞ্জ জেলার মুন্সিগঞ্জ পৌরসভা এবং বগুড়া জেলার শিবগঞ্জ পৌরসভায় মেয়র পদে হচ্ছে উপনির্বাচন। সবমিলিয়ে সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদ, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদসহ সব মিলিয়ে স্থানীয় সরকারে বিভিন্ন পর্যায়ের ২৩৩টি নির্বাচন হচ্ছে।
নির্বাচন কমিশনের (ইসি) জনসংযোগ পরিচালক শরীফুল আলম জানান, পৌরসভা, জেলা পরিষদ এবং সিটি করপোরেশনে ভোটগ্রহণ হচ্ছে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) মাধ্যমে। বাকি নির্বাচনগুলো ব্যালট পেপারের মাধ্যমে হচ্ছে।
ভোট গ্রহণের জন্য নির্বাচনি এলাকায় সরকারি-বেসরকারি অফিস বন্ধ রাখা হয়েছে। যানবাহন চলাচলও সীমিত করা হয়েছে।
বিএনপি অংশ না নেওয়ায় এবং আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয়ভাবে প্রার্থী ঘোষণা না করায় এবার দুই সিটির নির্বাচন অনেকটা “নির্দলীয়” হতে যাচ্ছে। মেয়র নির্বাচনে এবার দলীয় প্রতীক না থাকায় কুমিল্লায় আওয়ামী লীগের দুজন ও ময়মনসিংহে তিনজন নেতা প্রার্থী হয়েছেন। অন্যদিকে নির্বাচনে অংশ না নিলেও কুমিল্লায় ভোটের আলোচনায় আছে বিএনপিও।
ময়মনসিংহে বিএনপির কেউ প্রার্থী না হলেও কুমিল্লায় বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত দুই নেতা প্রার্থী হয়েছেন। ফলে কুমিল্লায় বিএনপির ভোটাররাও জয়-পরাজয় নির্ধারণে ভূমিকা রাখবেন বলে আলোচনা আছে। অন্যদিকে ময়মনসিংহ নগর আওয়ামী লীগে দুটি পক্ষ রয়েছে। দুই পক্ষ থেকেই প্রার্থী থাকায় সেখানে দলীয় কোন্দলের বিষয়টি সামনে এসেছে।
দুই সিটির ভোটের প্রচারে বড় ধরনের কোনো হামলা-সংঘর্ষের ঘটনা না ঘটলেও নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নিরপেক্ষতা ও নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে একাধিকবার প্রশ্ন তুলেছেন কুমিল্লা সিটিতে মেয়র পদে প্রার্থী হওয়া চারজনের তিনজনই। ভোটারদের কেন্দ্রে যেতে হুমকি, ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন তারা।
দুই সিটি নির্বাচনে সাধারণ কেন্দ্রের নিরাপত্তায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীগুলোর ১৬ জনের ফোর্স এবং ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে ১৭ জনের ফোর্স মোতায়েন থাকছে। পৌরসভাগুলোতে ১২ থেকে ১৪ জনের এবং ইউপি নির্বাচনগুলোতে ২২ জনের ফোর্স নিয়োজিত করা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনার মো. আলমগীর বলেন, “আইনশৃঙ্খলা রক্ষার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছি। যেসব জায়গা থেকে চাহিদা এসেছে, সেখানে বেশি ফোর্স দিয়েছি। অতিরিক্ত ম্যাজিস্ট্রেটও দেওয়া হয়েছে।”