এসএসসির শেষ দিনে ঝালকাঠিতে কেন্দ্র ভাঙচুর করল পরীক্ষার্থীরা

ঝালকাঠিতে এসএসসি পরীক্ষার শেষ দিনে একটি কেন্দ্রে ব্যাপক ভাঙচুর করেছে পরীক্ষার্থীরা। রবিবার (১০ মার্চ) ঝালকাঠি সরকারি হরচন্দ্র বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে বিজ্ঞান ও উচ্চতর গণিত (তত্ত্বীয়) পরীক্ষা শেষে এ ঘটনা ঘটে।

ওই বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের দোতলার ২০৩ নম্বর কক্ষের চারটি বৈদ্যুতিক ফ্যান, তিনটি টিউবলাইট ও শৌচাগারের দরজা, প্যান ও কমোড ভাঙচুর করে পরীক্ষার্থীরা। ওই কক্ষের পাশে ২০৫ নম্বর কক্ষেও দুটি ফ্যান ও দুটি টিউবলাইট ভাঙচুর করা হয়েছে।

ভাঙচুরের ঘটনার দুটি ভিডিও এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

জানা গেছে, কক্ষ দুটিতে মোট ৬১ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষা দেয়। যাদের মধ্যে ঝালকাঠি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ৩১ জন, উদ্বোধন বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ১৫ জন ও পৌর আদর্শ উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ১৫ শিক্ষার্থী ছিল।

হরচন্দ্র বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের কর্মচারী মাকসুদা বেগম বলেন, “পরীক্ষা শেষ হলে পরীক্ষার্থীরা হইহুল্লোড় করে নেমে যায়। পরে কক্ষ পরিষ্কার করতে গিয়ে দেখি, সব ভাঙাচোরা। ততক্ষণে স্যারেরাও দায়িত্ব শেষ করে চলে যান।”

এদিকে বিদ্যালয়ের ভাঙচুরের খবরে ক্ষোভে ফেটে পড়েন হরচন্দ্র বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা। বিক্ষুব্ধ এক ছাত্রী বলেন, “বিদ্যালয়ে পরীক্ষা শেষে উত্তরপত্র জমা নিয়ে পরীক্ষার্থীরা বের হওয়ার পর কক্ষ পরিদর্শকের বের হওয়ার কথা। কক্ষ পরিদর্শকরা কি পরীক্ষার্থীদের কক্ষে রেখে উত্তরপত্র নিয়ে বের হয়ে গিয়েছিলেন? তারা সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করলে এমনটি হতো না।”

হরচন্দ্র সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের আরেক ছাত্রী বলেন, “প্রতিবছরই এমন ঘটনা ঘটছে। সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ছেলেরা সাধারণত সারা বছর আমাদের স্কুলে ঢুকতে পারে না। কেবল পরীক্ষার সময় স্কুলে আসতে পারে। প্রতিবছর প্রতিহিংসা থেকে স্কুলের শৌচাগার, বেঞ্চে আজেবাজে কথা লিখে যায়। এবার তাণ্ডব চালাল।”

ভাঙচুরের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসেন ভারপ্রাপ্ত কেন্দ্র সচিব মাওলানা এ এস এম মাসুম বিল্লাহ। তিনি বলেন, “এ বিষয়ে আমি কিছুই বলব না। যা বলার প্রধান শিক্ষক ও কেন্দ্রসচিব বলবেন।”

কেন্দ্রসচিব ও বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলাম বলেন, “আমি ছুটিতে আছি। ভারপ্রাপ্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মাসুম বিল্লাহ। ভাঙচুরের ঘটনা শুনেছি।”

ঝালকাঠি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. সুলতান আহম্মেদ বলেন, “ওই কেন্দ্রে ৫৫০ শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিয়েছে। সবাই আমার বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নয়। কিছু মেয়ে পরীক্ষার্থীও পরীক্ষা দিয়েছে। বিষয়টি কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ আমাকে জানায়নি। এরপরও তদন্তে আমার ছাত্ররা দোষী প্রমাণিত হলে অভিভাবক ও কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ঝালকাঠি হরচন্দ্র বালিকা বিদ্যালয় ও সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি জেলা প্রশাসক ফারাহ্ গুল নিঝুম বলেন, “বিষয়টি শুনেছি। গুরুত্বসহকারে দেখছি।”