নিখোঁজ তরুণকে পাওয়া গেল মিল্টনের আশ্রমে, পেটে কাটা দাগ

পাঁচ মাস ধরে নিখোঁজ ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জের মানসিক ভারসাম্যহীন তরুণ সেলিম মিয়াকে (৪৩) মিল্টন সমাদ্দারের চাইল্ড অ্যান্ড ওল্ড এইজ কেয়ার থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় তার পেটে কাটার ক্ষত দেখা যায়। যদিও হাসপাতালে শারীরিক পরীক্ষায় তার কিডনি অক্ষত রয়েছে বলে জানা যায়।

সম্প্রতি ফেসবুকে মিল্টন সমাদ্দারের আশ্রমে সেলিমকে দেখতে পান স্বজনরা। মঙ্গলবার পরিবারের সদস্যরা সেখানে গিয়ে পুলিশের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে বাড়ি ফিরিয়ে আনেন।

মো. সেলিম ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ বড়হিত ইউনিয়নের বৃপাচাশী গ্রামের বাসিন্দা।

এদিকে বাড়ি ফিরিয়ে আনার পর সেলিমের শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম ও তলপেটে দুপাশে কাটা দাগ দেখতে পাওয়া যায় বলে জানান পরিবারের সদস্যরা। তাদের অভিযোগ, আশ্রয় কেন্দ্রে সেলিমকে নির্যাতন করে কিডনি অপসারণ করে নেওয়া হয়েছে। এজন্য শনিবার ময়মনসিংহের একটি বেসরকারি হাসপাতালে শারীরিক পরীক্ষা করানো হলে তার কিডনি অক্ষত দেখতে পাওয়া যায়।

হাসপাতালের রেডিওলজি অ্যান্ড ইমেজিং বিভাগের চিকিৎসক ডা. শহীদুল্লাহ জানান, তার পেটে অস্ত্রোপাচারের কোনো ক্ষতচিহ্ন নেই। কিডনিও অক্ষত রয়েছে। মানসিক ভারসাম্যহীন হওয়ায় চলাচলের সময় আঘাত পেয়ে পেটে ক্ষতের সৃষ্টি হতে পারে। তবে পেট কাটা ও সেলাই করার মত কোনো আলামত নেই।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় পাঁচ মাস আগে মানসিক ভারসাম্যহীন সেলিম বাড়ি থেকে নিখোঁজ হন। নিখোঁজের পর পরিবারের লোকজন অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তাকে পায়নি। এরই মাঝে মিল্টন সমাদ্দারের চাইল্ড অ্যান্ড ওল্ড এইজ কেয়ারের বিষয়টি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হলে ওই আশ্রমে সেলিমের ছবি দেখতে পান স্বজনরা। তারপর গত মঙ্গলবার সেলিমের মা রাবিয়া, চাচাতো ভাই গ্রাম পুলিশ আব্দুর রশিদ সেলিমের সন্ধানে ঢাকা চাইল্ড অ্যান্ড ওল্ড এইজ কেয়ারে যান এবং সেখানে তাকে শনাক্ত করেন। থানা পুলিশের সহায়তায় সেলিমকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় সেখান থেকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়।

সরেজমিন সেলিমের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, সেলিমকে দেখতে অনেক মানুষ ভিড় করেছে। লাল কাপড় পরিহিত কাউকে দেখলেই ভয়ে আঁতকে উঠছেন সেলিম মিয়া। ঠিকমতো হাঁটতে পারছেন না। তলপেটের দু’পাশে কাটা দাগ। ক্ষত এখনো ভালোমতো শুকায়নি।

সেলিমের মা রাবিয়া খাতুন বলেন, ‘‘আমার ছেলে মানসিকভাবে অসুস্থ ছিল, কিন্তু শরীরে কোনো দাগ ছিল না। পরিকল্পিতভাবে আমার ছেলেকে নির্যাতনের পর তলপেটের দু’পাশে কাটাছেঁড়া করে কিডনি খুলে নেওয়া হয়েছে। আমরা এর বিচার চাই।’’

এ বিষয়ে ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ মাজেদুর রহমান বলেন, ‘‘এমন একটি খবর পেয়ে বাড়িতে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। সেই সঙ্গে পরিবারের লোকজনকে তার চিকিৎসা ও কিছু পরীক্ষার করার জন্য বলে দেওয়া হয়েছে। পরীক্ষার পর বোঝা যাবে ঘটনাটা কী। এরপর অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’

ফেসবুকে ব্যাপক আলোচিত মিল্টন সমাদ্দারকে জাল মৃত্যুসনদ দেওয়ার মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার নামে অভিযোগ, সমাজসেবী চেহারার আড়ালে তিনি ভয়ংকর সব কর্মকাণ্ড চালাতেন।

গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) দাবি, মিল্টন সমাদ্দারের সংস্থার অপারেশন থিয়েটারের লাইসেন্স ছিল না। নিজের স্বাক্ষরেই বানাতেন মৃত্যুসনদ। তবে কিডনি-মানব পাচারের তথ্য মেলেনি বলে জানিয়েছে ডিবি।