পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের স্থাবর–অস্থাবর সম্পদ জব্দের আদেশ দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তার সম্পদ কেনার ৮৩টি দলিল জব্দেরও আদেশ দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (২৩ মে) ঢাকা মহানগরের জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ মোহাম্মদ আস-সামছ জগলুল হোসেন এ আদেশ দেন। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান।
তিনি বিবিসি বাংলাকে বলেন, “আদালতে অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তার পক্ষ থেকে লিখিত আবেদন করা হয়েছিল। আদালত আইন-কানুন দেখে নথি দেখে জব্দের নির্দেশ দিয়েছেন।”
তার সমস্ত সম্পদ জব্দের আওতায় আসছে কি-না জানতে চাইলে দুদক আইনজীবী বলেন, “মামলাটি এখন অনুসন্ধান পর্যায়ে রয়েছে। অনুসন্ধান পুরোপুরি শেষ হওয়ার আগে বলা যাবে না, সব সম্পত্তি এর মধ্যে রয়েছে কি-না। মোট ৮৩ টি দলিলের সম্পদ, বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট রয়েছে এই তালিকায়। কক্সবাজারের একটি প্রোপার্টিও রয়েছে।”
তবে এটিকে বিশেষ কোনো অগ্রগতি হিসেবে না দেখে তদন্ত কাজের একটা অংশ হিসেবে দেখতেই আগ্রহী দুদকের এই আইনজীবী।
সম্প্রতি বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদ ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে অস্বাভাবিক সম্পদ অর্জনের অভিযোগ ওঠে। এ নিয়ে কয়েকটি পত্রিকায় প্রতিবেদনও প্রকাশ করা হয়। প্রথম পর্বের প্রতিবেদনের মূল শিরোনাম ছিল “বেনজীরের ঘরে আলাদীনের চেরাগ”।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বেনজীরের পরিবারের মালিকানায় রয়েছে প্রায় ১ হাজার ৪০০ বিঘা জমির ওপর নির্মিত ইকো রিসোর্ট। এই রিসোর্টের পাশে আরও ৮০০ বিঘা জমি কিনেছে তার পরিবার। এছাড়া পাঁচ তারকা হোটেলের দুই লাখ শেয়ারও রয়েছে তাদের। ঢাকার বসুন্ধরায় সাড়ে তিন হাজার বর্গফুটের ফ্ল্যাটও রয়েছে বেনজীরের পরিবারের। এসব সম্পত্তি অবৈধ টাকায় কেনা হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
তারই ধারাবাহিকতায় এপ্রিলে বেনজীর আহমেদের সম্পদ অনুসন্ধানে কাজ শুরু করে দুদকের তিন সদস্যের একটি কমিটি।