১৫ লাখ টাকার সেই ছাগলটি এখন কোথায়?

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) পদ হারানো কর্মকর্তা মতিউর রহমান ও তার ছেলে মুশফিকুর রহমান ইফাতের “ছাগলকাণ্ড” উন্মোচিত হওয়ার পর সেই ছাগলটির ভাগ্যে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। ১৫ লাখ টাকা দাম হাঁকানো সাদিক অ্যাগ্রো ফার্মের ওই ছাগলটি এখনও অবিক্রিত রয়ে গেছে। যদিও বিষয়টি নিয়ে সাদিক অ্যাগ্রো সংশ্লিষ্ট কেউ ঢাকা ট্রিবিউনের কাছে মুখ খোলেননি।

আবার ফার্মে কর্মরত কেউ সাদিক এগ্রো লিমিটেডের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইমরান হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগের নম্বরও দিতে রাজি হননি। যদিও এই ছাগল নিয়ে বিতর্কের আগে বহুবার গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়েছেন তিনি।

কয়েক মাস আগে একটি টেলিভিশনকে ইমরান বলেছিলেন, ওই ছাগলটি যশোর থেকে কিনেছিলেন তিনি।

ছাগলের চাহিদা বেশি থাকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমরা এটি বিক্রি করার জন্য দুঃখিত, কারণ চাহিদা বেশি ছিল। আমাদের কাছে ছাগল আরও বেশি থাকলে আমরা আরও বিক্রি করতে পারতাম।”

ইমরান জানান, ১০ লাখ ৩৫ হাজার টাকায় ওই ছাগলটি কিনেছিল সাদিক অ্যাগ্রো।

এদিকে, আফসার শাহ নামে ভারতীয় এক বিটল ছাগল খামারি জানান, ঈদ-উল-আজহার জন্য তার সবচেয়ে বড় ছাগলের আকার ছিল 52 ইঞ্চি; যেখানে সাদিক অ্যাগ্রোর ছাগলটির উচ্চতা ৬২ ইঞ্চি।

এবার কোরবানির ঈদের জন্য ১৫ লাখ টাকায় ওই ছাগলের বায়না করা ইফাতের সঙ্গে এনবিআর মতিউর রহমানের বাবা-ছেলের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে সাদিক অ্যাগ্রো ফার্মে অভিযান চালিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন/আহাদুল করিম খান/ঢাকা ট্রিবিউন

এমন পরিস্থিতিতে সাদিক অ্যাগ্রোর চেয়ারম্যান ইমরান তার ভোল পাল্টান। তিনি দাবি করেন, ছাগলটি অবিক্রিত রয়ে গেছে। আর ইফাত ছাগলটি না নিয়ে ১ লাখ টাকায় বায়না দিয়েছে।

অন্যদিকে, ইফাত-মতিউর ছাপিয়ে এখন আলোচনার কেন্দ্রে সাদিক অ্যাগ্রো। বৃহস্পতিবার (২৭ জুন) খাল ও সড়কের জায়গা দখল করে রাখায় ঢাকার মোহাম্মদপুর বেড়িবাঁধ এলাকার সাদিক অ্যাগ্রোর অবৈধ অংশ উচ্ছেদ করেছে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি)।

এখন প্রশ্ন উঠছে ১৫ লাখ টাকার সেই ছাগলটি কোথায়। অভিযান শুরুর আগেই খামারের বেশকিছু পশু সরিয়ে নেওয়া হয়। অভিযানের সময়ও বাকি পশু সরিয়ে নেওয়া হয়; যার মধ্যে ছিল ১৫ লাখ টাকার “উচ্চবংশীয়” ছাগলও।