‘সাদিক অ্যাগ্রোর খামারের জায়গায়’ হবে বিনোদন পার্ক

খাল উদ্ধারের অংশ হিসেবে ঢাকার মোহাম্মদপুরের আলোচিত সাদিক অ্যাগ্রোর খামারের পুরোটাই গুঁড়িয়ে দিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি)। পরে খাল খননও শুরু করে ডিএনসিসি। আগামীতে নতুন করে যাতে কেউ খাল ভরাট করতে না পারে, সেজন্য খালের একাংশে শিশুদের জন্য খেলার জায়গা তৈরি করে দেওয়ার পরিকল্পনাও করছে তারা।

বৃহস্পতিবার (২৭ জুন) মোহাম্মদপুরের রামচন্দ্রপুর খাল উদ্ধারের কাজ শুরু হয়। পরে শুক্র ও শনিবারও চলে (২৮ ও ২৯ জুন) এই অভিযান।

অভিযানে নেতৃত্ব দেন ডিএনসিসির অঞ্চল-৫-এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোতাকাব্বীর আহমেদ এবং ডিএনসিসির সম্পত্তি কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব হাসান।

খাল উদ্ধারের উচ্ছেদ অভিযানকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয়রা বলেন, “খালের পানি প্রবাহ স্বাভাবিক হলে জলাবদ্ধতা দূর হবে। খালকে কেন্দ্র করে একটি সুন্দর পরিবেশ ফিরে আসবে। আমাদের ছেলে-মেয়েরা যাতে সুন্দর পরিবেশে বেড়ে উঠতে পারে, কর্তৃপক্ষে যাতে সেরকম পরিবেশের ব্যবস্থা করে দেয়, এটিই আমাদের দাবি।”

স্থানীয় বাসিন্দা ও সাত মসজিদ গৃহনির্মাণ সমবায় সমিতির পরিচালক মো. ফারুক হোসেন অনলাইন সংবাদমাধ্যম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, “খাল দখলমুক্ত চাই। দখলমুক্ত করে খনন করা হোক, যাতে খালে আগের মতো পানি সরবরাহ হতে পারে।”

মো. নূরুল ইসলাম গাজী নামের আরেক বাসিন্দা বলেন, “১৯৯৪ সালে তিন কাঠা জমি কিনি এই খাল পাড়ে। তখন খালটি সুন্দর ছিল, গভীর ছিল। পানি প্রবাহও ভালো ছিল। আমরা চাই খালটি আবার গভীরভাবে খনন করা হোক।”

স্থানীয়দের মতে, একসময় এই খালের প্রস্থ ছিল প্রায় ১০০ ফুটের মতো। মাঝে এটি পুরোপুরি ভরাট করে ট্রাকস্ট্যান্ড বানানো হয়। পরে ওয়াসা থেকে খালটির দায়িত্ব বুঝে পাওয়ার পর ডিএনসিসির মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম সেই স্ট্যান্ড উচ্ছেদ করে নতুন করে খাল খননের কাজ শুরু করেন।

খালের শুরুর অংশে শিশুরা যেন খেলতে পারে, এমন একটি ছোট পার্ক নির্মাণের পরিকল্পনা করছে নগর কর্তৃপক্ষ। এ বিষয়ে ডিএনসিসির এক কর্মকর্তা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, “খাল দখলমুক্ত করে যে জায়গা খালি করা হচ্ছে, পরবর্তী সময়ে ওই খালি জায়গায় এলাকাবাসীর জন্য একটি বিনোদন পার্ক স্থাপন করা হবে। এটা করা হবে যাতে নতুন করে কেউ আবার খাল দখলের সুযোগ না পায়।”

এ বিষয়ে ডিএনসিসির তথ্য কর্মকর্তা মো. পিয়াল হাছান বলেন, “এখনও সেরকম কোনো বড় পরিকল্পনা নেওয়া হয়নি। তবে দখলমুক্ত রাখতে শিশুদের খেলার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা করা হতে পারে।”