যানজটের নগরী ঢাকার বাসিন্দাদের জন্য আশীর্বাদ হয়ে এসেছিল মেট্রোরেল। তবে দুবৃর্ত্তদের তাণ্ডবে সাময়িকভাবে সেই আশীর্বাদ থেকে আপাতত বঞ্চিত নগরবাসী।
সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের ডাকা আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে রাজধানীর বিভিন্ন গুরত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। তারা হামলা চালিয়েছে মেট্রোরেলের কাজীপাড়া ও মিরপুর-১০ স্টেশনে।
আর এই প্রেক্ষাপটে জরুরি মেরামতের প্রয়োজনে এবং জনগণের জানমালের নিরপত্তার স্বার্থে পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত মেট্রোরেল চলাচল বন্ধ ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ।
তবে আরও বেশি হতাশার খবর হলো, ক্ষতিগ্রস্ত কাজীপাড়া ও মিরপুর-১০ স্টেশনটি মেরমাত করতে অন্তত এক বছর সময় লেগে যাবে। অর্থাৎ মেট্রোরেল চলাচল বন্ধের সিদ্ধান্ত যেকোনো সময় প্রত্যাহার করে নেওয়া হলেও এই দুটি স্টেশনের যাত্রীদের ভোগান্তি পোহাতো হবে দীর্ঘ সময়।
শনিবার (২০ জুলাই) সকাল থেকে বন্ধ রয়েছে মেট্রোরেল চলাচল। যা পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ থাকবে।
শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনে দুটি স্টেশনে ভয়াবহ হামলার পর এই সিদ্ধান্ত নেয় মেট্টো কর্তৃপক্ষ।
শনিবার ক্ষতিগ্রস্ত স্টেশন দুটি পরিদর্শন করেন মেট্রোরেল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ডিটিএমসিএল কর্তৃপক্ষ। এ সময় প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান এম এ এন সিদ্দিক সাংবাদিকদের জানান, স্টেশনের ক্ষতিগ্রস্ত অনেক যন্ত্রপাতিই মেরামতযোগ্য অবস্থায় নেই। এগুলো নতুন করে আমদানি করতে হবে। অর্ডার দেওয়ার পর সরবারহকারী প্রতিষ্ঠান সেগুলো উৎপাদন করবে। সবমিলিয়ে একটা দীর্ঘ সময় প্রয়োজন।
তিনি জানান, শুক্রবার সন্ধ্যায় অসংখ্য দুর্বৃত্ত স্টেশন দুটির গেট ভেঙে ঢুকে পড়ে। নিরাপত্তা কর্মীদের পক্ষে তাদের প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়নি। তারা স্টেশন দুটিতে ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। লুট করে কম্পিউটারসহ বিভিন্ন মালামাল। স্টেশনের টিকেট ভেন্ডিং মেশিন ভেঙেও টাকা লুটপাট করে দুর্বৃত্তরা।
এদিকে রবিবার এন এম সিদ্দিক জানান, এই দুটি স্টেশন ছাড়া বাকি স্টেশনগুলোতে মেট্রোরেল চলাচল কবে থেকে শুরু হবে সেটি জানতে অন্তত এক সপ্তাহ অপেক্ষা করতে হবে।