সরকার পতনের এক দফা দাবির ডাক দেওয়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম দাবি আদায়ে প্রয়োজনে হাতে অস্ত্র তুলে নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেন, “শিক্ষার্থীরা যেকোনো পরিস্থিতির জন্য সবসময় প্রস্তুত থাকে। আমরা আজ লাঠি হাতে নিয়েছি। লাঠিতে কাজ না হলে আমরা হাতে অস্ত্র নিতে প্রস্তুত।”
সরকার পতনের এক দফা দাবিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকা অসহযোগ কর্মসূচির প্রথম দিনে রবিবার (৪ আগস্ট) বিকেল ৩টার দিকে শাহবাগে বিক্ষোভ সমাবেশে একথা বলেন নাহিদ ইসলাম।
আওয়ামী লীগকে সন্ত্রাসী উল্লেখ করে নাহিদ বলেন, “আওয়ামী লীগ দেশে গৃহযুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি করতে চায়। তারা আন্দোলন দমনে সড়কে নেমেছে। দেশ গৃহযুদ্ধের দিকে ধাবিত হচ্ছে।”
তিনি বলেন, "মোবাইল ইন্টারনেট আবার বন্ধ করা হয়েছে। ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটও বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এ ধরনের ষড়যন্ত্র এবার কোনো কাজে আসবে না। ইন্টারনেট বন্ধ হলেও আমরা রাজপথে থাকব।"
ছাত্র আন্দোলনের এই সমন্বয়ক বলেন, "আমাদের লক্ষ্য, লক্ষ্য এবং গন্তব্য পরিষ্কার। একমাত্র বিজয়ই আমাদের লক্ষ্য। আমরা এখনও সময় দিচ্ছি। সরকার যদি সহিংসতা অব্যাহত রাখে তাহলে তাদের জানিয়ে দিতে চাই যে, আমরা গণভবনের দিকে তাকিয়ে আছি।"
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, “আপনাকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, যে আপনি রক্তপাত এবং সহিংসতা করবেন নাকি ছাত্রদের দাবি মেনে পদত্যাগ করবেন।”
নাহিদ বলেন, "আমাদের এক দফা দাবি ঘোষণা করা হয়েছে। এখন আমাদের ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের রূপরেখা ঘোষণা করা বাকি। যদি আমাদের গুম করা হয়, খুন করা হয়, গ্রেপ্তার করা হয়; যদি ঘোষণা করার কেউ না থাকে, তাহলে আন্দোলন চলবে।”
তিনি বলেন, "আর যদি আমার ভাইদের বুকে গুলি করা হয়, আমার বোনদের কেউ আহত হয়; তাহলে কেউ নিষ্ক্রিয় হয়ে বসে থাকব না। প্রতিটি পাড়া, গ্রামে, মহল্লায়, গলিতে ‘প্রতিরোধ কমিটি’ গঠন করুন। যেখানেই হামলা হবে সেখানে প্রতিরোধ গড়ে তুলুন।"
নাহিদ ইসলাম বলেন, "এই সরকার আমরা মানি না। এখন থেকে শিক্ষার্থীরাই দেশ পরিচালনা করবে। শিক্ষার্থীদের ঘোষণাই চূড়ান্ত।"
এদিকে সরকার পতনের এক দফা দাবিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকা অসহযোগ কর্মসূচির প্রথম দিনে দিশের বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। রাত আটটা পর্যন্ত সারাদেশে ১৪ পুলিশ সদস্য মোট ৭২ জন নিহতের খবর পাওয়া গেছে। আহতত হয়েছেন আরও অসংখ্য মানুষ। হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে থানা, হাসপাতাল, আদালত, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক দলের কার্যালয়, আদালত, পুলিশের গাড়িসসহ বিভিন্ন স্থাপনায়।
রবিবার (৪ আগস্ট) বেলা ১১টার দিক থেকে বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ শুরু করেন আন্দোলনকারীরা। তবে এদিন দেশের বেশিরভাগ স্থানেই আন্দোলনকারীদের বাধা দেয়নি পুলিশ সদস্যরা। অন্যদিকে, বিভিন্ন স্থানে সড়কে অবস্থান নেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরও। এতে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষে বেশিরভাগ স্থানে হতাহতের ঘটনা ঘটে।
অন্যদিকে, সিরাজগঞ্জে এনায়েতপুর থানায় ঢুকে ১৩ পুলিশ সদস্যকে এবং কুমিল্লার ইলিয়টগঞ্জ হাইওয়ে থানায় হামলা চালিয়ে একজন পুলিশ সদস্যকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।
সংবাদমাধ্যম প্রথম আলো থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী এখন পর্যন্ত এ নরসিংদীতে ৬ জন, ফেনীতে ৫ জন, সিরাজগঞ্জে ১৩ পুলিশসহ মোট ২২ জন, কিশোরগঞ্জে ৪ জন, রাজধানী ঢাকায় ৪ জন, বগুড়ায় ৪ জন, মুন্সিগঞ্জে ৩ জন, মাগুরায় ৪ জন, ভোলায় ৩ জন, রংপুরে ৪ জন, পাবনায় ৩ জন, সিলেটে ৪ জন, কুমিল্লায় পুলিশ সদস্যসহ ৩ জন, জয়পুরহাটে ১ জন, হবিগঞ্জে ১জন ও বরিশালে ১ জনসহ ৭২ জন নিহতের খবর পাওয়া গেছে।
এদিকে, সহিংস পরিস্থিতিতে সোমবার থেকে বুধবার পর্যন্ত তিন দিন নির্বাহী আদেশে সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। রবিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত সারাদেশে কারফিউ ঘোষণা করা হয়েছে।