সোমবার দেশজুড়ে সহিংসতায় নিহত ১৩৫

সোমবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শেখ হাসিনার পদত্যাগের আগে ও পরে সারা দেশে পুলিশের গুলি, গণপিটুনি ও অগ্নিসংযোগে অন্তত ১৩৫ জন নিহত হয়েছেন।

আগের দিন, রোববার, আওয়ামী লীগের সদস্য ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষের কারণে পুলিশের গুলিতে অন্তত ৯৬ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

সোমবার (৫ আগস্ট) রাজধানীর উপকণ্ঠে সাভার ও ধামরাই এলাকায় পুলিশ ও দুর্বৃত্তদের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ১৮ জন নিহত হয়েছেন।

পুলিশ টিয়ারশেল ও বুলেট নিক্ষেপ করলে আরো ৫০ জন আহত হয়। গুলিবিদ্ধদের মধ্যে বেশ কয়েকজন সাংবাদিক ছিলেন বলে স্থানীয় লোকজন জানিয়েছেন।

সোমবার বিকেলে রাজধানীর উত্তরায় বেসামরিক পোশাকধারী ব্যক্তিদের বিক্ষোভকারীদের উপর গুলি চালানোর পরে কমপক্ষে ১০ জন নিহত এবং অনেকে আহত হয়েছেন। উত্তরা পূর্ব থানা থেকে গুলি ছোড়া হয়। এর প্রতিক্রিয়ায় শত শত বিক্ষুব্ধ জনতা থানা ঘেরাও করে আগুন ধরিয়ে দেয়।

বিভিন্ন হাসপাতালের সূত্র রাজধানীতে অন্তত ৭৮ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

হবিগঞ্জে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে অন্তত ছয়জন নিহত ও শতাধিক আহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন- হাসান মিয়া (১২), আশরাফুল (১৭), নয়ন (১৮), তোফাজ্জল (১৮), মোজাক্কির (৪০) ও সাদিকুর (৩০)।

যশোরে একটি আবাসিক হোটেলে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের অগ্নিসংযোগের ঘটনায় অন্তত ৮ জন দগ্ধ ও ৮৪ জন আহত হয়েছেন। এই নিহতের সংখ্যা পরে ১৮তে গিয়ে দাড়িয়েছে।

হোটেলটির মালিক ছিলেন যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহিন চাকলাদার।

খুলনায় কয়রা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জিএম মহসিন রেজাসহ তিনজনকে পিটিয়ে হত্যা করেছে জনতা।

নিহত অন্য দুইজন হলেন- রেজার গাড়িচালক আলমগীর ও তার ব্যক্তিগত সহকারী মফিজুল ইসলাম।

বরিশালে সোমবার সাবেক মেয়র ও সিটি আ’লীগের সভাপতি সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহর বাড়িতে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মারা হয়েছে তিনজনকে।

কোতয়ালী থানার ওসি আরিচুর হক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

টাঙ্গাইলে সদর উপজেলায় দুইজন এবং ধনবাড়ী উপজেলায় পুলিশের গুলিতে আরেকজন নিহত হয়েছেন।

জেলায় আহত হয়েছেন অন্তত ৪০ জন।

লক্ষ্মীপুরের অন্যত্র সোমবার সংঘর্ষে অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন। হাসপাতাল সূত্র জানায়, আরো ৩৫ জন গুলিবিদ্ধ আহত হয়েছেন।

এর মধ্যে জেলার তমিজ মার্কেট এলাকায় সাবেক যুবলীগ নেতা ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান একেএম সালাহ উদ্দিন টিপুর বাড়ির সামনে থেকে মোট সাতটি লাশ উদ্ধার করা হয়।

কুষ্টিয়ায় ১৩ বছরের এক শিশুসহ ছয়জন নিহত হয়েছেন।

সাতক্ষীরায় আরও তিনজন নিহত হয়েছেন।

এদিকে, গাজীপুরের শ্রীপুরে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যরা বিজিবির দুটি গাড়িতে বাধা দেয়া দুর্বৃত্তদের লক্ষ্য করে গুলি চালালে অন্তত ছয়জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।

গাড়ির ভেতরে অন্তত ৮০ জন বিজিবি সদস্য ছিলেন।

সোমবার দুপুর ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

গাজীপুরের সফিপুরে সোমবার বিকেলে আনসার সদস্যদের গুলিতে দুইজন নিহত হয়েছেন। সূত্র জানায়, সফিপুরে আনসার-ভিডিপি একাডেমিতে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করেছে দুর্বৃত্তরা। আনসার সদস্যরা আত্মরক্ষার্থে গুলি চালালে ঘটনাস্থলেই দুইজন নিহত হয়।

এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও শতাধিক। কোনাবাড়ি ও বাসন থানায়ও হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা।

নওগাঁয় খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদারের বাসভবন ভাঙচুর করেছে একদল দুর্বৃত্ত।

এদিকে, সোমবার নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য মাশরাফি বিন মুর্তজার বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে দুর্বৃত্তরা। এ ছাড়া তারা জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ করে এবং জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সুভাষ চন্দ্র বসুর বাড়ি ভাঙচুর করে।

নারায়ণগঞ্জে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের বাসা ভাংচুর করেছে দুর্বৃত্তরা।

এ সময় তারা জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়কে লক্ষ্য করে ভাংচুর করে।

কুমিল্লায় কুমিল্লা-৬ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহারের বাড়িতে আগুন দেওয়া হয়েছে। কুমিল্লা শহরের মনোহরপুর মুন্সেফবাড়ি এলাকায় এক জনতা বাহারের বাড়িতে হামলা চালিয়ে সম্পত্তি পুড়িয়ে দেওয়ার আগে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করে।

শেরপুরে জেলা কারাগারে দুর্বৃত্তরা হামলা চালিয়ে কারাগার থেকে ৫ শতাধিক বন্দিকে পালিয়েছে। সোমবার বিকেলে কারফিউর মধ্যে লাঠি ও স্থানীয় অস্ত্রে সজ্জিত একটি জনতা মিছিল বের করে।

চট্টগ্রামে দুর্বৃত্তরা অন্তত ছয়টি থানায় হামলা, ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ, অস্ত্র, গুলিসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম লুট করে নিয়ে গেছে। এ ছাড়া আ.লীগের নেতাকর্মীদের বাড়ি-ঘর ও কার্যালয় লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়।