নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার রূপসীতে গাজী গ্রুপের টায়ার তৈরির কারখানায় লুটপাটের পর আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। রবিবার (২৬ আগস্ট) রাত ৯টার দিকে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে বলে জানান কারখানার সহকারী মহাব্যবস্থাপক সাইফুল ইসলাম। সোমবার বিকেল ৪টা পর্যন্ত আগুন পুরোপুরি নেভানো সম্ভব হয়নি। আগুন নেভাতে ফায়ার সার্ভিসের ১২টি ইউনিট কাজ করছে।
ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের ঢাকা বিভাগের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রেজাউল করিম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, “আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও পুরোপুরি নেভানোর চেষ্টা চলছে। মূলত কারখানাটিতে প্রচুর টায়ার, টায়ার তৈরির কাঁচামাল ও প্লাস্টিক জাতীয় দ্রব্য থাকায় আগুন পুরোপুরি নেভাতে সময় লাগছে।”
এদিকে কারখানার ভেতর থেকে ১৪ জনকে উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস। এখনও ১৭৫ নিখোঁজ রয়েছেন দাবি করেছেন স্থানীয়রা। উদ্ধার হওয়া কিংবা নিখোঁজ থাকা কেউই কারখানাটির শ্রমিক নন।
ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তরের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা তালহা বিন জসিম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, “আমরা এখনও জানি না ভেতরে নিখোঁজ কেউ আছে কি-না। ভবনের বিভিন্ন জায়গা থেকে আগুন এখনও জ্বলছে। আমরা এখনও ভেতরে ঢুকতে পারিনি। কিন্তু স্বজনরা এসে কান্নাকাটি করছে এবং দাবি করছেন তাদের স্বজনরা নিখোঁজ রয়েছে। তাই আমরা লিখে রাখছি। এখন পর্যন্ত ১৭৫ জনের নাম পাওয়া গেছে।”
তিনি আরও বলেন, “এর আগে ১৪ জনকে ভবন থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। মূলত এরা লুটপাট করতে ভবনের উপরতলায় উঠেছিল। সে সময় ভবনে আগুন ধরিয়ে দেওয়ায় তারা আটকা পড়ে।”
ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (প্রশিক্ষণ, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) ও লেফটেন্যান্ট কর্নেল রেজাউল করিম বলেন, “অনেকে নিখোঁজ রয়েছেন এমন দাবি করছেন তাদের স্বজনরা। তবে এই তালিকা যাচাই-বাছাইয়ের সুযোগ নেই। ধারণা করা হচ্ছে, নিখোঁজরা কারখানায় ঢুকে মালামাল সরাতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন।”
এদিকে, কারখানার সহকারী মহাব্যবস্থাপক সাইফুল ইসলামের ভাষ্য, বিকেলের পর দুটি গ্রুপে কয়েক শ লোক কারখানায় ঢুকে পড়েন। তাদের বাধা দেওয়ার মতো পরিস্থিতি ছিল না। লুটপাটের পর রাত ৯টার দিকে কারখানাটির একাধিক ভবনে আগুন লাগিয়ে দেয় লুটপাটকারীরা।
গাজী গ্রুপের মালিক গোলাম দস্তগীর গাজী। তিনি আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী ও নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য। রবিবার ভোররাতে ঢাকার শান্তিনগর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার হন তিনি।
গাজী গ্রুপের টায়ার তৈরির কারখানায় কর্মরত শফিকুল ইসলাম ঢাকা ট্রিবিউনকে জানান, তাকে গ্রেপ্তারের পরপরই রূপগঞ্জে বিভিন্ন এলাকা থেকে আনন্দ মিছিল বের হয়। একপর্যায়ে বিকেলে তারা কারখানার ভেতরে ঢুকে শ্রমিক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বের করে দিয়ে গেট আটকে দেয়। এরপরই লুটপাট শুরু করে।
তিনি বলেন, “টায়ার তৈরির জন্য বিভিন্ন কেমিক্যাল, কাঁচামালসহ প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ কোটি টাকার মালামাল ছিল ভবনটিতে। লুটপাট শেষে সন্ধ্যা ৭টা থেকে ৮টার মধ্যে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এ সময় লুটপাটকারী কয়েকজন আটকা পড়ে ভবনে ভেতরে। পরে তাদের উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস।”
শফিকুল ইসলাম আরও বলেন, “এবারই প্রথম না, শেখ হাসিনা পদত্যাগ করারা পর ৫ আগস্টও লুটপাট শেষে আগুন ধরিয়ে দিয়েছিল দুর্বৃত্তরা। তখন কারখানাটির ৫ থেকে ৬টা শেড পুরোপুরি পুড়ে যায়। এখন আমরা ভবনটির ভেতরে কাজ করছিলাম। সেটাও পুড়িয়ে দিয়েছে। মূলত স্যারের (গোলাম দস্তগীর গাজী) প্রতিপক্ষের লোকজন এ ঘটনা ঘটিয়েছে। তাদের উদ্দেশ্য মূলত এ জমি দখল করা।”