ইউএনও পদ থেকে একদিন পরই সরানো হলো সাংবাদিক পেটানো নাজিমকে

ইংরেজি দৈনিক ঢাকা ট্রিবিউন ও অনলাইন ‍সংবাদমাধ্যম বাংলা ট্রিবিউনের কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি আরিফুল ইসলাম রিগানকে মধ্যরাতে ঘরের দরজা ভেঙে তুলে নিয়ে গিয়ে নির্যাতনকারী কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসনের তৎকালীন রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর (আরডিসি) নাজিম উদ্দিনকে কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) হিসেবে পদায়ন করার একদিন পরই সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

তাকে ইউএনও পদ থেকে সরিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের উপপরিচালক পদে তাকে বদলি করা হয়েছে।

রবিবার (৮ সেপ্টেম্বর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মোহাম্মদ মামুন শিবলী স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার মো. সাবিরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে, শনিবার নাজিম উদ্দিনকে কিশোরগঞ্জ জেলার ইটনা উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসেবে পদায়ন করা হয়। তাকে রবিবার বদলিকৃত কর্মস্থলে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশ হলে নাজিমকে প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেয় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

সাংবাদিক আরিফের করা ফৌরদারি মামলায় এজাহার নামীয় আসামি নাজিম উদ্দিন।

উল্লেখ্য, কুড়িগ্রামের তৎকালীন জেলা প্রশাসক সুলতানা পারভীনের নামে সরকারি পুকুরের নামকরণ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের জেরে ২০২০ সালের ১৩ মার্চ দিবাগত মধ্যরাতে সাংবাদিক আরিফকে তার শোবার ঘরের দরজা ভেঙে তুলে নিয়ে যায় জেলা প্রশাসনের কয়েকজন ম্যাজিস্ট্রেট ও আনসার সদস্যরা। তৎকালীন আরডিসি নাজিম উদ্দিনের নেতৃত্বে আরিফকে পেটাতে পেটাতে গাড়িতে তুলে জেলা শহরের পূর্ব প্রান্তে ধরলা নদীর তীরে ক্রসফায়ারের উদ্দেশে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে ফিরিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নিয়ে বিবস্ত্র করে নির্যাতন করা হয়। আরিফের ঘরে আধা বোতল মদ ও দেড়শ’ গ্রাম গাঁজা পাওয়ার অভিযোগ এনে মধ্যরাতে মোবাইল কোর্ট বসিয়ে এক বছরের কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দিয়ে রাতেই তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় দেশজুড়ে প্রতিবাদ উঠলে এক দিনের মাথায় জামিনে মুক্তি পান আরিফ। পরে তৎকালীন ডিসি সুলতানা পারভীন, আরডিসি নাজিম উদ্দিন, এনডিসি রাহাতুল ইসলাম ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রিন্টু বিকাশ চাকমাকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। এরপর তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু করে। অভিযোগ প্রমাণ হওয়ায় সুলতানা পারভীনকে দুই বছরের জন্য বেতন বৃদ্ধি (ইনক্রিমেন্ট) স্থগিত, এনডিসি রাহাতুল ইসলামের তিনটি ইনক্রিমেন্ট কর্তন, আরডিসি নাজিম উদ্দিনকে নিম্নধাপে নামিয়ে দেওয়া হয় এবং রিন্টু বিকাশ চাকমাকে চাকরিচ্যুত করার সিদ্ধান্ত নেয় জনপ্রশাসন। তবে পরে তারা সবাই রাষ্ট্রপতির কাছে দাপ্তরিক দায়মুক্তি পান।