ইলিশের দাম কেন কমছে না?

বাংলাদেশের মোট মৎস্য উৎপাদনে ইলিশ মাছের অবদান প্রায় ১২%। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, গত কয়েক বছরে দেশে ইলিশের উৎপাদন যথেষ্ট বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে দেশে ইলিশের বার্ষিক উৎপাদন ৫ লাখ ৭১,০০০ মেট্রিক টন। তবে উৎপাদন বাড়লেও দাম বেশি থাকায় বেশিরভাগ মানুষের কাছেই “মাছের রাজা” যেন ধরাছোঁয়ার বাইরে।

এদিকে, এ বছর ভারতে ইলিশ রপ্তানি না করার সিদ্ধান্তের পর অনেকেই জাতীয় মাছটির দাম কমবে বলে আশায় ছিলেন। আবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে ইলিশে দাম কমার তথ্য। তবে বাজারে গিয়ে দাম শুনে হতাশই হতে হচ্ছে ক্রেতাদের।

সম্প্রতি অন্তর্বতী সরকারের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার ভারতে ইলিশ না পাঠানো সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে বলেন, “আমরা ক্ষমা চাচ্ছি, কিন্তু আমরা ভারতে কোনো ইলিশ পাঠাতে পারব না। এটি দামি মাছ। আমরা দেখেছি, আমাদের দেশের মানুষই ইলিশ খেতে পারে না। কারণ সব ভারতে পাঠানো হয়।”

আর তাতেই সাধারণ মানুষের মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছিল যে, রপ্তানি বন্ধের ফলে কমবে ইলিশের দাম।

তবে বাস্তবে পরিস্থিতি ভিন্ন। ঢাকার বাজারে ৯০০ গ্রাম থেকে এক কেজি ওজনের মাছের জন্য ১,৮০০ টাকা পর্যন্ত হাঁকছেন বিক্রেতারা।

মৎস ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ইলিশের দাম না কমার অন্যতম কারণ, যোগানের ঘাটতি।

তাদের ভাষ্য, জেলের জালে ধরা পড়া ইলিশ তিন থেকে পাঁচ হাত ঘুরে ক্রেতার কাছে আসে। এসব জায়গায় দামের তারতম্যের ওপর বাজারও ওঠানামা করে। মাছের আকার যত বড় হয়, কেজিপ্রতি দামও তত বেশি হয়ে থাকে।

মৎসখাত সংশ্লিষ্টদের বরাত দিয়ে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম বিবিস বাংলার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রায় এক কেজি ওজনের মাছের কেজিপ্রতি দাম উৎসে এক হাজার থেকে ১, ১০০ টাকা। অর্থাৎ, জেলেরা এই দাম পান। আড়তে ওই আকৃতির মাছের দাম ওঠে ১,৫০০ থেকে ১,৬০০ টাকা। যা আরও ২০০-৩০০ টাকা বেশি দিয়ে কিনতে হয় ভোক্তাকে।

দাম না কমার পেছনে আরও যেসব কারণ

দেশের ইলিশ রক্ষায় সরকার প্রতি বছর ১ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত দুই মাসের মাছ ধরা বন্ধ কর্মসূচি ঘোষণা করে। এই নির্দিষ্ট সময়ে ইলিশের অভয়াশ্রমে মাছ ধরা, পরিবহন, বিক্রি ও মজুত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এরপর মে-জুন থেকে অক্টোবরের মাঝামাঝি পর্যন্ত ইলিশ আহরণের মৌসুম। তবে এ বছর এই ভরা মৌসুমেও ইলিশ কম ধরা পড়ছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা।

এই দাদনদাতাদের মাধ্যমেই জেলেদের মাছ বিক্রির বাধ্যবাধকতা থাকে। এতে কমিশন এজেন্ট হিসেবে ব্যবসায়ীরা ১০% অর্থ পান বলে বিবিসির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

ব্যবসায়ীদের দাবি, যোগান বেশি না থাকলে মাছের দাম কমানোর সুযোগ থাকে না। কারণ, এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে জেলে ও ট্রলারের খরচ তথা ব্যবসার বিনিয়োগ ও অন্যান্য ব্যয়।

ব্যবসায়ীদের বরাত দিয়ে বিবিসি জানায়, আকৃতিভেদে একেকটি ট্রলার বানাতে ব্যয় হয় এক থেকে দেড় কোটি টাকা। সেগুলো ১০-১২ বছর পর্যন্ত ব্যবহারযোগ্য থাকে।

ফলে, ট্রলারের বিনিয়োগ তুলে আনতে গেলেও মাছের বেচা-বিক্রি ভালো দামে হওয়া জরুরি তাদের কাছে।

এছাড়া, মাছের বাজারের উচ্চ দামের জন্য কেউ কেউ সিন্ডিকেটের অভিযোগও অনেকের। তবে, সিন্ডিকেটের অস্বীকার করছেন মাছ ব্যবসায়ীরা।

জেলেদের জালে মাছ ধরা পড়লে দাম এমনিতে কিছুটা কমে আসবে বলে দাবি তাদের।