দিনাজপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলার ঘটনায় ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে একটি মামলা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে দিনাজপুর সদরের উত্তর শেখপুরা গ্রামের রাশেদা খাতুন (৫৫) বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় মামলাটি করেন।
তার ছেলে আশরাফুল আলম ওই হামলার ঘটনায় শরীরের বিভিন্ন অংশে গুলির স্প্রিন্টার নিয়ে ঢাকায় চিকিৎসাধীন।
মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, সাবেক নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরীসহ ৮৪ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া ৩০০ থেকে ৩৫০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি দেখানো হয়েছে।
মামলার অন্য আসামিদের মধ্যে আছেন জাতীয় সংসদের সাবেক হুইপ ইকবালুর রহিম, দিনাজপুর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মনোরঞ্জন শীল গোপাল, দিনাজপুর-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শিবলী সাদিক, সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ইমদাদ সরকার, বীরগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আবু হুসাইন, বিরল পৌরসভার সাবেক মেয়র সবুজার সিদ্দিক প্রমুখ।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ৪ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে ছাত্র-জনতার সঙ্গে অংশ নেন আশরাফুল আলম। দুপুর ১২টার দিকে আন্দোলনকারীরা মিছিল নিয়ে দিনাজপুর সদর হাসপাতাল মোড়ে গেলে আওয়ামী লীগ নেতাদের সুপরিকল্পিত ও প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় দলের নেতাকর্মীরা আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এতে কয়েকশ ছাত্র-জনতা গুরুতর জখম হয়। এর মধ্যে আশরাফুল শরীরের বিভিন্ন অংশে গুলিবিদ্ধ হয়। গুলিবিদ্ধ হয়ে তার ডান চোখ অন্ধ হয়ে যায়। তাকে প্রথমে দিনাজপুর সদর হাসপাতাল এবং পরে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে ঢাকায় একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
দিনাজপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (অসি) ফরিদ হোসেন ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে আহত আশরাফুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তির মা বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন। হত্যার উদ্দেশ্যে মারধর, গুরুতর জখম ও সহায়তার অপরাধের ধারায় মামলা রেকর্ড করা হয়েছে।”