ভারি বৃষ্টিতে ঢাকার বাতাসের মানের উন্নতি

টানা কয়েক দিন “অস্বাস্থ্যকর” বায়ু থাকলেও আজ ঢাকার বাতাসের মানের উন্নতি হয়েছে। বাংলাদেশের জনবহুল রাজধানী শহরের বাতাস এখন “মাঝারি” পর্যায়ে রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩ অক্টোবর) সকাল ৯টায় বিশ্বের ১২১টি শহরের মধ্যে ঢাকার অবস্থান ৩১ তম।

বুধবার সন্ধ্যা থেকেই ঝুম বৃষ্টি নেমেছে ঢাকায়। যা অব্যাহত ছিল রাতভর। বৃহস্পতিবার সকালেও কোথাও গুঁড়িগুঁড়ি, আবার কোথাও হালকা বৃষ্টি হচ্ছে। বৃষ্টিতে সাধারণত বাতাসের মান ভালো হয়।

আইকিউএয়ারের বাতাসের মানসূচকে সকাল সাড়ে নয়টার দিকে ঢাকার স্কোর ৬৫। বায়ুর এ মান মাঝারি বা গ্রহণযোগ্য হিসেবে ধরা হয়।

অন্যদিকে পাকিস্তানের লাহোর, ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তা ও ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর কিনশাসা যথাক্রমে ২২০, ১৭৯ ও ১৬০ একিউআই স্কোর নিয়ে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান দখল করেছে।

বায়ুদূষণের এ পরিস্থিতি নিয়মিত তুলে ধরে সুইজারল্যান্ডভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ার। বাতাসের মান নিয়ে তৈরি করা এই লাইভ বা তাৎক্ষণিক আইকিউএয়ারের সূচক একটি নির্দিষ্ট শহরের বাতাস কতটা নির্মল বা দূষিত, সে সম্পর্কে মানুষকে তথ্য দেয় এবং সতর্ক করে।

আইকিউএয়ারের মানদণ্ড অনুযায়ী, স্কোর ৫১ থেকে ১০০ হলে তাকে “মাঝারি” বা “গ্রহণযোগ্য” মানের বায়ু হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ১০১ থেকে ১৫০ স্কোরকে “সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর” ধরা হয়। স্কোর ১৫১ থেকে ২০০ হলে তা “অস্বাস্থ্যকর” বায়ু। স্কোর ২০১ থেকে ৩০০ হলে তাকে “খুবই অস্বাস্থ্যকর” বায়ু ধরা হয়। ৩০১ থেকে তার ওপরের স্কোরকে “দুর্যোগপূর্ণ” বা “ঝুঁকিপূর্ণ” ধরা হয়।

বাংলাদেশে একিউআই নির্ধারণ করা হয় দূষণের ৫টি বৈশিষ্ট্যের ওপর ভিত্তি করে। সেগুলো হলো- বস্তুকণা (পিএম১০ ও পিএম২.৫), এনও২, সিও, এসও২ ও ওজোন (ও৩)।

দীর্ঘদিন ধরে বায়ু দূষণে ভুগছে ঢাকা। এর বাতাসের গুণমান সাধারণত শীতকালে অস্বাস্থ্যকর হয়ে যায় এবং বর্ষাকালে কিছুটা উন্নত হয়।

২০১৯ সালের মার্চ মাসে পরিবেশ অধিদপ্তর ও বিশ্বব্যাংকের একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ঢাকার বায়ু দূষণের তিনটি প্রধান উৎস হলো- ইটভাটা, যানবাহনের ধোঁয়া ও নির্মাণ সাইটের ধুলো।

ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশন (ডব্লিউএইচও) অনুসারে, বায়ু দূষণের ফলে স্ট্রোক, হৃদরোগ, ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ, ফুসফুসের ক্যান্সার এবং তীব্র শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণের কারণে মৃত্যুহার বেড়ে গিয়েছে। এর ফলে বিশ্বব্যাপী প্রতি বছর আনুমানিক ৭০ লাখ মানুষ মারা যায়।