সাইবার নিরাপত্তা আইন বাতিল করা হবে বলে জানিয়েছেন আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল।
বৃহস্পতিবার (৩ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর বিচার প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে এক মতবিনিময় সভায় এ কথা জানান ড. আসিফ নজরুল।
এ সময় আসিফ নজরুল আরও বলেন, “শুধু সাইবার নিরাপত্তা আইন নয়,পর্যায়ক্রমে সব কালো আইন বাতিল করা হবে।”
এ সময় তথ্য উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম বলেন, “আমি মনে করি সাইবার নিরাপত্তা আইন বাতিল করা উচিত। কারণ এই আইনের সব সংশোধন করলেও মানুষের মনে সংশয় রয়ে যাবে।”
সভায় টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “সাইবার নিরাপত্তা আইন সংশোধনের অযোগ্য। এ আইন পুরোপুরি বাতিলের দাবি করতে হবে।”
প্যানেল আলোচকদের অধিকাংশই সাইবার নিরাপত্তা বাতিলের দাবি জানান।
মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার সারা হোসেন,ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষক ড. নাসিমুজ্জামান ভুইয়া,সাংবাদিক নেতা কাদের গনি চৌধুরী,আইনজীবী শিশির মনির, ব্যারিস্টার আনিতা গাজী,লেখক জাহেদ উর রহমান, ব্যারিস্টার প্রিয়া আহসান প্রমুখ।
এর আগে, গত ৩০ সেপ্টেম্বর আইন মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, সাইবার আইনে দায়ের হওয়া “স্পিচ অফেন্স” (মুক্তমত প্রকাশ) সম্পর্কিত মামলাগুলো প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
একইসঙ্গে এসব মামলায় কেউ গ্রেপ্তার থাকলে তিনিও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে মুক্তি পাবেন বলেও জানায় আইন মন্ত্রণালয়।
জানা গেছে, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন ২০০৬, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮ এবং সাইবার নিরাপত্তা আইন ২০২৩-এর অধীনে চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত দেশের ৮টি সাইবার ট্রাইব্যুনালে মোট পাঁচ হাজার ৮১৮টি মামলা চলমান রয়েছে।
এ ছাড়া বর্তমানে “স্পিচ অফেন্স” সম্পর্কিত এক হাজার ৩৪০টি মামলা চলমান। এরমধ্যে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের অধীনে ২৭৯টি, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অধীনে ৭৮৬টি এবং সাইবার নিরাপত্তা আইনের অধীনে ২৭৫টি মামলা চলমান। এসব মামলার মধ্যে ৪৬১টি মামলা তদন্তকারী সংস্থার নিকট তদন্তাধীন এবং ৮৭৯টি মামলা দেশের আটটি সাইবার ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন।
উল্লেখ্য, ডিজিটাল মাধ্যমে মুক্তমত প্রকাশের কারণে দায়ের হওয়া মামলাগুলোকে “স্পিচ অফেন্স” এবং কম্পিউটার হ্যাকিং বা অন্য কোনো ডিজিটাল ডিভাইসের মাধ্যমে জালিয়াতিকে “কম্পিউটার অফেন্স” হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।