তাঁতীবাজারের পূজামণ্ডপে ‘ছিনতাইকারীদের পেট্রলবোমা’ নিক্ষেপ

পুরান ঢাকার তাঁতীবাজারে পূজামণ্ডপে একটি “পেট্রলবোমা” নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। তবে সেটি বিস্ফোরিত হয়নি। কালো হয়ে যাওয়া সলতেসহ সবুজ কাচের বোতলটি উদ্ধার করা হয়েছে।

শুক্রবার (১১ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন তিনজনকে আটকের কথা জানিয়েছে পুলিশ।

স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মণ্ডপের পাশেই আছে একটি গলি। ওই গলি থেকে কয়েকজন তরুণ পূজার মঞ্চ লক্ষ্য করে একটি বোতল ছুড়ে মারেন। এতে অল্প একটু আগুন জ্বললেও বিস্ফোরিত হয়নি। এ ঘটনায় লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সবাই এদিক-ওদিক ছোটাছুটি শুরু করেন।

হামলার ঘটনার পর ঘটনাস্থলে আসেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অতিরিক্ত কমিশনার রেজাউল করিম মল্লিক। তিনি এ সময় সাংবাদিকদের বলেন, “ছিনতাইয়ের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাস্থল থেকে তিনজনকে আটক করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে বিস্তারিত জানার চেষ্টা চলছে।”

আটক একজনের কাছ থেকে একটি স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের লালবাগ বিভাগের উপ-কমিশনার জসীম উদ্দিন।

তাঁতীবাজারে পূজামণ্ডপে এই পেট্রোল বোমাটি ছুড়ে মারা হয়েছিল। এতে অল্প একটু আগুন জ্বললেও বিস্ফোরিত হয়নি/সংগৃহীত

কোতোয়ালি থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. লিটন জানান, শুক্রবার রাত ৮টার দিকে চকলেট বোমা ফাটিয়ে প্রথমে আতঙ্কের সৃষ্টি করে ওই তরুণরা। পূজায় অংশ নেওয়া দর্শনার্থীরা এ সময় দিগ্বিদিক ছুটাছুটি করলে ছিনতাই শুরু করে। এরপর স্বেচ্ছাসেবকেরা তাদের সঙ্গে ধস্তাধস্তি করলে তারা ছুরিকাঘাত করে।

এসআই লিটন আরও জানান, আহতদের চিকিৎসার জন্য স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আটকদের কাছে একটি ধারালো অস্ত্র জব্দ করা হয়েছে।

ছুরিকাঘাতে আহত ব্যক্তিরা হলেন- দীপ্ত দে (২৬), ঝন্টু ধর (৫০), খোকন ধর (৪০), সাগর ঘোষ (২৬) ও মো. রমিজ উদ্দিন (৩০)।

প্রাথমিকভাবে জানানো হয়, আটকরা সবাই টোকাই। তাদের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) লালবাগ বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন বলেন, “তিনজনকে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। ঘটনাস্থলের আশেপাশের ফুটেজ নিয়ে পর্যালোচনা চলছে আসল ঘটনা কী ছিল। তবে এখনো আমরা নিশ্চিত না এটি ছিনতাই নাকি অন্য কোনো ঘটনা।”

তিনি বলেন, “আটক তিন ছিনতাইকারীর হাতে কাচি, ছুরি পাওয়া গেছে। তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।”

ঘটনার বিষয়ে পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ শর্মা অনলাইন সংবাদমাধ্যম বিডিনিউজকে বলেন, “হামলার ব্যাপারে শুনেছি। আমাদের পরিষদের লোকজন পুলিশের সঙ্গে কথা বলছে। পরে বিস্তারিত জানানো হবে। আগে আমরা পুরো ব্যাপারটি জানার চেষ্টা করছি। পরে পরিষদ আনুষ্ঠানিকভাবেই বক্তব্য জানাবে।”