শাবিপ্রবি ক্যাম্পাসে হামাস প্রধান ইয়াহিয়া সিনওয়ারের গায়েবানা জানাজা

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি) ক্যাম্পাসে ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের প্রধান ইয়াহিয়া সিনওয়ারের গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (১৯ অক্টোবর) বিকেল পৌনে পাঁচটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলচত্বরে এ জানাজার আয়োজন করেন শিক্ষার্থীরা।

এর আগে, সিনওয়ার হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বিক্ষোভ মিছিল করেন শিক্ষার্থীরা। মিছিল পূর্ববর্তী সমাবেশে সমাজকর্ম বিভাগের শিক্ষার্থী আজাদ শিকদারের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন হাফিজুর রহমান, শাকিল মাহমুদ, মুহাম্মদ রিয়াদ, ফয়সাল হোসেন প্রমুখ।

এ সময় শিক্ষার্থীরা ইয়াহিয়া সিনওয়ারের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং মুসলিম জাতিকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে জালিমদের বিরুদ্ধে লড়াই করার আহ্বান জানান।

উল্লেখ্য, গত বুধবারে ইসরায়েলের হামলায় ইয়াহিয়া সিনওয়ার নিহত হন। শুক্রবার হামাসের রাজনৈতিক কার্যালয় এক বিবৃতিতে সিনওয়ারের নিহত হওয়ার ঘটনা নিশ্চিত করে। বিবৃতিতে বলা হয়, “হামাস প্রতিবারই আরও শক্তিশালী ও জনপ্রিয় হয়েছে। মুক্ত ফিলিস্তিন প্রতিষ্ঠার পথে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের যাত্রা অব্যাহত রাখতে এই নেতারা একেকজন আদর্শ হয়ে রইবেন।”

ইয়াহিয়া সিনওয়ার ১৯৬২ সালে গাজার খান ইউনিস শরণার্থী ক্যাম্পে জন্ম গ্রহণ করেন। তার পরিবারের আদি বাসস্থান ছিল মাজদাল আসকালানে। পরবর্তীতে ইসরায়েল যার নাম দেয় আসকেলন। ১৯৪৮ সালে জাতিসংঘের ভোটাভুটির মাধ্যমে ইসরায়েলের সৃষ্টি হওয়ার পর সিনওয়ারের পরিবারকে মাজদাল আসকালান ছেড়ে গাজার খান ইউনিসে চলে যেতে হয়। সেখানে শরণার্থী হিসেবে জীবন শুরু করেন তারা।

সিনওয়ার তার জীবনের ২২ বছর ইসরায়েলের কারাগারে ছিলেন। ১৯৮৮ সালে দুই ইসরায়েলি সেনাকে জিম্মি এবং তাদের হত্যা করায় সিনওয়াকে আটক করা হয়েছিল। ২০১১ সালে বন্দি বিনিময় চুক্তির মাধ্যমে মুক্তি পান তিনি। ইসরায়েলি কারাগারে বন্দি থাকার সময় হিব্রু ভাষা আয়ত্ত করেন ইয়াহিয়া সিনওয়ার।

২০১৭ সালে হামাসের গাজা শাখার প্রধান হন তিনি। এরপর এ বছরের জুলাইয়ে ইসমাইল হানিয়া যখন গুপ্তহত্যার শিকার হন তখন তিনি হামাসের প্রধান নেতার দায়িত্ব পান।

ইসরায়েলে গত বছরের ৭ অক্টোবর যে হামলা চালানো হয় সেটির “মাস্টারমাইন্ড” হিসেবে অভিহিত করা হয় সিনওয়ারকে।