শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলায় পাহাড়ের ঢালে সাধু লিওর খ্রিষ্টধর্ম পল্লিতে ফাতেমা রানীর তীর্থোৎসবে এক আলোক শোভাযাত্রা বের করা হয়। সেখানে সবাই জ্বলন্ত মোমবাতি হাতে প্রায় ২ কিলোমিটার পাহাড়ি আঁকাবাঁকা পথ পাড়ি দেন।
শুক্রবার (১ নভেম্বর) দুই দিন ব্যাপী এই ফাতেমা রানী তীর্থোৎসবের শেষ দিন আজ।
এ উৎসবে সারাদেশের খ্রিষ্টান সম্প্রদায়সহ অন্য ধর্মাবলম্বীরাও যোগ দিয়েছেন। বারোমারি ধর্মপল্লিতে প্রতিবছর অক্টোবরের শেষ বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার এই তীর্থযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। এদিন তারা মা মারিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তার সাহায্য প্রার্থনা করেন।
পবিত্র খ্রিষ্টযোগের মধ্য দিয়ে বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টায় শুরু হয় তীর্থোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা। এরপর রাতে আলোক শোভাযাত্রা, মা মারিয়া মূর্তিকে সামনে রেখে বিশাল প্যান্ডেলে অনুষ্ঠিত হয় আরাধ্য সংক্রান্তের আরাধনা, নিরাময় অনুষ্ঠান ও নিশি জাগরণের মধ্য দিয়ে শেষ হয় প্রথম দিনের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান।
পরবর্তীতে আজ শেষ দিনে সকাল ৮টায় জীবন্ত ক্রুশের পথ ও সকাল ১০টায় মহাখ্রিষ্টযোগের মাধ্যমে তীর্থোৎসবের সমাপ্তি হবে। এবার অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়েছেন ঢাকা মহাধর্ম প্রদেশের সহকারী বিশপ সুপ্রত গমেজ।
আয়োজক কমিটি সূত্রে জানা যায়, প্রতিবছর অক্টোবর মাসের শেষ বৃহস্পতি ও শুক্রবার অনুষ্ঠিত হয় দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববৃহৎ তীর্থযাত্রা, “ফাতেমা রানীর তীর্থোৎসব’’। ১৯৪২ সালে প্রায় ৪২ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত বারোমারি সাধু লিওর ধর্মপল্লি। ১৯৯৮ সাল থেকে বার্ষিক তীর্থস্থান হিসেবে বেছে নেওয়া হয় এ ধর্মপল্লিকে। ময়মনসিংহ ধর্ম প্রদেশের প্রয়াত বিশপ ফ্রান্সিস এ গমেজ ১৯৯৮ সালে এ ধর্মপল্লিকে ‘‘ফাতেমা রানীর তীর্থস্থান’’ হিসেবে ঘোষণা করেন। তখন থেকেই অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে তীর্থোৎসব। এবারের উৎসবে যোগ দিয়েছেন প্রায় ২৫ হাজার দেশি-বিদেশি রোমান ক্যাথলিক।