পূর্বঘোষণা অনুযায়ী ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আজ অনুষ্ঠিত হচ্ছে ইসলামি মহাসম্মেলন। এতে অংশ দিতে ভোর থেকে সেখানে জমায়েত হয়েছেন আলেম-ওলামারা। ফলে ঢাকার অধিকাংশ রাস্তায় দেখা দিয়েছে তীব্র যানজট।
মঙ্গলবার (৫ নভেম্বর) সকাল থেকে যানজটের কারণে ভোগান্তিতে পড়েছেন স্কুল-কলেজের অসংখ্য শিক্ষার্থী ও অফিসগামী মানুষ।
আজিমপুর, সায়েন্সল্যাব, নিউমার্কেট, নীলক্ষেত, মৎস্যভবন, বাংলামটর, ফার্মগেট ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকাসহ ঢাকার বিভিন্ন সড়কে তীব্র যানজট দেখা দিয়েছে। সম্মেলনস্থলের আশপাশের বিভিন্ন সড়কে গাড়ি রাখায় এই যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। কিছু কিছু সড়কে অনেকক্ষণ পরপর একটু একটু করে সামনে এগুতে পারছে গাড়িগুলো। শাহবাগে গাড়ি চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে আছে।
যানজটে আটকা পড়া বিরক্ত যাত্রীদের অনেককে গাড়ি থেকে নেমে হেঁটেই গন্তব্যে রওনা দিয়েছেন।
জানা গেছে, নীলক্ষেত, শাহবাগ, সচিবালয়, ঢাকা মেডিকেল ও হাইকোর্টের সামনে দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও সোহরাওয়ার্দীর সামনে দিয়ে যেতে চাওয়া গাড়িগুলোকে পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করছে। এদিকে যেতে চাওয়া গাড়িগুলোকে বিকল্প পথে গন্তব্যস্থলে যাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছে।
ট্রাফিক আপডেট বিষয়ক দেশের সবচেয়ে বড় ফেসবুক গ্রুপ “ট্রাফিক এলার্টে” এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন একাধিক ব্যাক্তি।
উল্লেখ্য, তাবলিগের দুই পক্ষের জন্য ২০১৯ সাল থেকে বিশ্ব ইজতেমা দুই পর্বে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। প্রতিবার দ্বিতীয় পর্বে ইজতেমা করেন মাওলানা সাদ কান্ধলভীর অনুসারীরা। এবার তারা প্রথম পর্বে ইজতেমা করার দাবি জানান। তারই বিরোধিতা করে এই মহাসম্মেলনের ডাক দেন কওমি মাদরাসাভিত্তিক আলেমরা।
এদিকে, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের আশপাশের সড়কে গাড়ি রাখায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল থেকেই এই যানজট লক্ষ্য করা গেছে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রাজু ভাস্কর্যসহ টিএসসি এলাকায় যানজট আরও তীব্র হয়েছে। যানজটের কারণে ভোগান্তিতে পড়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার শিক্ষার্থীরা। সকালে ক্লাসের জন্য বের হওয়া শিক্ষার্থীরা যানজটের আটকে থাকার কথা জানিয়েছেন। এমনকি কিছু কিছু বিভাগে ক্লাসও বাতিল করা হয়েছে।
এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সাইফুদ্দিন আহমেদ বলেন, “আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছি। কিন্তু এত বিশাল জনসমাগম পরিচালনা করা চ্যালেঞ্জিং। গত রাত থেকে আমরা ক্যাম্পাসের চারপাশে যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছি, তারপরও পরিস্থিতি অস্বাভাবিক রয়ে গেছে।”