ভোক্তাপর্যায়ে এলপি গ্যাসের নতুন দাম নির্ধারণ করেছে সরকার। নভেম্বর মাসের জন্য প্রতি ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ১ টাকা কমিয়ে ১,৪৫৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৫ নভেম্বর) নতুন এ দর ঘোষণা করে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন। যা সন্ধ্যা থেকে কার্যকর হবে।
বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ জানান, নভেম্বর মাসের জন্য ১২ কেজি এলপিজির দাম ১,৪৫৬ টাকা থেকে ১ টাকা কমিয়ে ১,৪৫৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এর আগে গত ২ অক্টোবর ভোক্তা পর্যায়ে অক্টোবর মাসের জন্য ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম সেপ্টেম্বর মাসের তুলনায় ৩৫ টাকা বাড়িয়ে ১,৪৫৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়। আর গত সেপ্টেম্বর, আগস্ট ও জুলাইয়ে বাড়ানো হয়েছিল যথাক্রমে ৪৪ টাকা, ১১ টাকা ও ৩ টাকা। সে সময় ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম নির্ধারণ করা হয় যথাক্রমে ১,৪২১ টাকা, ১,৩৭৭ টাকা ও ১,৩৬৬ টাকা।
তবে সরকারি কোম্পানির সরবরাহ করা সাড়ে ১২ কেজি এলপিজির দাম ৬৯০ টাকা অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। যদিও সারা দেশে চাহিদার তুলনায় এটি মাত্র ১ থেকে ১.৫% এর মতো সরবরাহ করার সক্ষমতা রয়েছে।
গত বছরের জুলাই মাসে ১২ কেজি ওজনের এলপিজির দাম ছিল ৯৯৯ টাকা। ৮ মাসের ব্যবধানে গত মার্চ মাসে সমপরিমাণ এলপিজির দাম বেড়ে ১,৪৮২ টাকা দাঁড়িয়েছিল। পরবর্তীতে ওই দাম কোনো মাসে বেড়েছে আবার কমেছে কোনো মাসে।
এলপিজি মূলত প্রোপেন ও বিউটেন এর একটি মিশ্রিত অনুপাত। এই দুটিই আমদানি করা হয়। সৌদি আরামকোর ঘোষিত মূল্য (সৌদি সিপি) ধরে প্রতি মাসে দেশে এলপি গ্যাসের দাম ঠিক করে বিইআরসি। দেশে ২০টি কোম্পানি এলপিজির কাঁচামাল আমদানি করে। দাম নির্ধারণে ডলারের মূল্যও একটি ভূমিকা রাখে।
যদিও বাজারে কমিশনের বেঁধে দেওয়া মূল্যের চেয়ে ব্যবসায়ীরা ইচ্ছে মতো বেশি দাম এলপিজি বিক্রি করছেন বলে দীর্ঘদিন ধরেই ভোক্তারা অভিযোগ করে আসছেন। এক্ষেত্রে বিইআরসির বক্তব্য, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ব্যাপারে তদারকি করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে।
এক যুগেরও বেশি সময় ধরে বাসাবাড়িতে পাইপলাইনে নতুন গ্যাস সংযোগ বন্ধ থাকার পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় গ্যাস সংকটের কারণে গৃহস্থালি রান্নার পাশাপাশি রেস্তোরাঁ, পরিবহন, ছোট-বড় শিল্পকারখানায়ও এলপিজি ব্যবহার বাড়ছে। এই বাজারের অন্তত ৯৯% বেসরকারি খাতের দখলে।