ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে বিএনপির সম্মেলনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।
সোমবার (১৮ নভেম্বর) দুপুর দেড়টায় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ৪টি মোটরসাইকেলে আগুন ও কমপক্ষে ৩০-৩৫টি দোকান ভাঙচুর করা হয়।
গুরুতর আহতদের বাঞ্ছারামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। আর আশঙ্কাজনক অবস্থায় ৪ জনকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় উপজেলা জুড়ে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। বন্ধ রয়েছে সব ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আগামী ২০ নভেম্বর বাঞ্ছারামপুর উপজেলার বিএনপির কাউন্সিলকে সামনে রেখে সোমবার সকাল থেকেই পুরো উপজেলায় উত্তেজনা বিরাজ করছিল। দুপুর দেড়টায় বাঞ্ছারামপুর উপজেলার পল্লী বিদ্যুতের মোড় থেকে সাবেক এমপি ও বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আব্দুল খালেক এবং অপর নির্বাহী সদস্য রফিক শিকদারের নেতৃত্বে সম্মেলনবিরোধী একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। বিভিন্ন অস্ত্র ও লাঠিসোটা হাতে মিছিলটি উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে মুসা মার্কেট এলাকায় পৌঁছায়। সে সময় প্রতিপক্ষ গ্রুপের নেতা ও কেন্দ্রীয় কৃষক দলের যুগ্ম-সম্পাদক মেহেদী হাসান পলাশের সমর্থকরা মিছিলটি লক্ষ্য করে ইটপাটকেলসহ দেশি অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে হামলা চালান। উভয় পক্ষের মধ্যে প্রায় ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষ চলে। অবশ্য সংঘর্ষ চলাকালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাউকে দেখা যায়নি। আহতদের মধ্যে উপজেলা বিএনপির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক জালাল উদ্দিন বাদল, যুবদল নেতা মুসা হায়দায় ও বিপ্লবসহ অর্ধশতাধিক নেতাকর্মীকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে গুরুতর আহত ৪ জনকে ঢাকা মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে। যদিও তাৎক্ষণিক তাদের পরিচয় জানা যায়নি।
বাঞ্ছারামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসক সৈয়দ অলী মোহাম্মদ রাসেল জানান, আহতদের মধ্যে ২৫ জনের নাম হাসপাতালে নথিভুক্ত করা হয়েছে। আরও ২৫ জনকে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। গুরুতর আহত ৪ জনকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। সব মিলিয়ে আহত অর্ধশতাধিক।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জাবেদুর রহমান বলেন, “বিএনপির কর্মসূচিকে ঘিরে গত কয়েক দিন ধরেই দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টা অভিযোগ ছিল। একপক্ষ ঘোষণা দেয় এটি প্রতিহত করবে। তখন পুলিশ দুইটি পক্ষের নেতাদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করে। এ সময় তারা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে কোনো বিবাদে জড়াবেন না। তারপরও এমন সংঘর্ষ দুঃখজনক।তবে পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে। এ ব্যাপারে কেউ মামলা করলে পুলিশ ব্যবস্থা নেবে।”
উল্লেখ্য, আগামী ২০ নভেম্বর পূর্ব নির্ধারিত বাঞ্ছারামপুর উপজেলা বিএনপির কাউন্সিলে দলটির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।