সেবাখাতের মধ্যে পাসপোর্ট পেতে গত বছর মানুষকে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতির শিকার হতে হয়েছে বলে তথ্য উঠে এসেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) এক জরিপে। ৮৬% খানা পাসপোর্ট সেবা নিতে গিয়ে দুর্নীতির শিকার হয়েছে।
দেশের সেবা খাতগুলো থেকে সেবা গ্রহণ করতে গিয়ে দুর্নীতির শিকার হয়েছে দেশের ৭০.৯% খানা। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর “সেবা খাতে দুর্নীতি: জাতীয় খানা জরিপ ২০২৩”-এ এই তথ্য উঠে এসেছে।
মঙ্গলবার (৩ ডিসেম্বর) ঢাকায় টিআইবির কনফারেন্স কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জরিপের এ ফলাফল প্রকাশ করা হয়।
এছাড়া ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের এপ্রিল পর্যন্ত সেবা খাতে জাতীয় পর্যায়ে মোট ঘুষের ন্যূনতম প্রাক্কলিত পরিমাণ ১,৪৬,২৫২ কোটি টাকা বলে উঠে এসেছে এ জরিপে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সংজ্ঞানুযায়ী, যে কয়জন ব্যক্তি একই রান্নায় খাওয়াদাওয়া এবং একসঙ্গে বসবাস করেন, তাদের একত্রে একটি “খানা” বা ”হাউসহোল্ড” বলা হয়।
এছাড়া বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) সেবা নিতে গিয়ে ৮৫.২%, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার সেবা নিতে গিয়ে ৭৪.৫% ও বিচারিক সেবা নিতে গিয়ে ৬২.৩% খানা দুর্নীতির শিকার হয়েছে।
জরিপের আওতাধীন খানা ছিল ১৫,৫১৫টি। এদের মধ্যে পুরুষ ৫১.৪%, নারী ৪৮.৫% ও তৃতীয় লিঙ্গ ০.১%। খানা প্রধানদের মধ্যে ২৩.৪% কৃষি/মৎস্য চাষ পেশায় আছেন।
সবচেয়ে বেশি ঘুষ দিতে হয়েছে পাসপোর্ট সেবা নিতে গিয়ে। প্রায় ৭৪.৮% খানা এই খাতে ঘুষ দিয়েছে।
সেবা খাতগুলোতে গড় ঘুষের পরিমাণ ৫,৬৮০ টাকা। টাকার অঙ্কে সবচেয়ে বেশি ঘুষ দিতে হয়েছে বিচারিক সেবা পেতে। এ খাতে প্রতি খানাকে দিতে হয়েছে গড়ে ৩০,৯৭২ টাকা।
বিভাগের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতি ও ঘুষের শিকার খানার হার বরিশাল বিভাগে। এই বিভাগে দুর্নীতির শিকার ৮২% এবং ঘুষের শিকার ৬১.৯% খানা।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “বাংলাদেশের দুর্নীতির ব্যাপকতা পরিমাপ করার একটি চিত্র এটি। বিশেষ করে সেবা খাতে। সরকারি এবং কিছু কিছু বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে সেবা নিতে গিয়ে ঘুষ লেনদেনের দুর্নীতি নিয়ে আমাদের এ জরিপ।”
তিনি বলেন, জরিপের তথ্যমতে ২০২৩ সালে জাতীয়ভাবে প্রক্কলিত মোট ঘুষের পরিমাণ ১০,৯০২.৩০ কোটি টাকা। ভূমি খাতে এর পরিমাণ সবচেয়ে বেশি ২,৫১৩ কোটি টাকা।